তুমি জন্ম নিতে চেয়েছিলে; আমি তোমাকে জন্ম দিতে দেই তোমার আনন্দের পথে? আমার দুঃখ কবে থেকে গেছে?
নোবেল বিজেতা আমেরিকান কবি লুইস গ্লুক
শংকর ব্রহ্ম ------------------------------------------------------------- [ দ্বিতীয় পর্ব] লুইস গ্লাকের আরও একগুচ্ছ কবিতা ভাষান্তর: পান্থজন জাহাঙ্গীর সতর্কবার্তা প্রেমে পড়ে আমি অপরাধী হয়েছি। তার আগে ছিলাম একজন পরিচারিকা । আমি তোমার সাথে শিকাগো যেতে চাইনি। আমি তোমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম, আমি চেয়েছিলাম তোমার স্ত্রীকে কষ্ট দিতে। আমি চেয়েছিলাম তার জীবন যেন নাটকের মতো হয় যার সমস্ত অংশ ট্রাজেডিতে ভরা। একজন ভাল ব্যক্তি এভাবে ভাববেন? আমি ভেবেছিলাম এটা আমার সাহসের কৃতিত্ব – আমি তোমার সামনের বারান্দায় অন্ধকারে বসে ছিলাম। আমার কাছে সবকিছু পরিষ্কার ছিল: যদি তোমার স্ত্রী তোমাকে যেতে না দেয় সেটি প্রমাণ করে যে সে তোমাকে ভালোবাসেনি। যদি সে তোমাকে ভালবাসতো সে কি তোমাকে খুশি করতে চাইবে না? আমি এখন ভাবি আমি যদি সামান্য চিন্তা করলেও তবে ভাল ব্যক্তি হতাম। তবে আমি ছিলাম একজন ভাল পরিচারিকা। আমি একসঙ্গে আট রকম পানীয় বহন করতে পারি। আমি তোমাকে আমার স্বপ্নগুলি বলতাম। গতরাতে আমি দেখলাম একজন মহিলা একটি অন্ধকার বাসে বসে আছে – স্বপ্নে, সে কাঁদছে,যে বাসটিতে রয়েছে সেটি দূরে সরে যাচ্ছে । এক হাত সে দোলাচ্ছে; অন্যটাতে বাচ্চাভর্তি একটি ডিমের বাক্স। স্বপ্ন মেয়েটিকে উদ্ধার করে না। স্বর্গীয় সংগীত আমরা দেখতে পেলাম একটি শুঁয়োপোকা ময়লার মধ্যে মরছে, লোভী পিঁপড়াগুলি তার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। আমি দুর্যোগ কখনো আমার পিছু ছাড়েনি, প্রাণশক্তির বিরোধিতা করতে আমি সর্বদা আগ্রহী তবে ভীরুও, দ্রুত চোখ বন্ধ করে ফেলি আমার বন্ধুটি ইভেন্টগুলি চালিয়ে যেতো, স্বভাবতই দেখতে দেখতে সক্ষম হয়েছিল । আমার জন্য সে হস্তক্ষেপ করেছিল ছেঁড়া জিনিসটি থেকে কয়েকটি পিঁপড়া ব্রাশ করে সাজিয়ে রেখেছিল রাস্তা বরাবর. আমার বন্ধু বলে যে, আমি নাকি ঈশ্বরের দিকে চোখ বন্ধ করে রেখেছি, যা অন্য কোনও কিছুই ব্যাখ্যা করে না বাস্তবে আমার বিরক্তি। সে বলে, আমি যেন শিশুদের মতো বালিশে মাথাটা পুড়িয়ে রাখি যাতে দেখা যায় না যায়,যে শিশুটি নিজেকে বলে সেই সামান্য দুঃখ নিয়ে আসছিল- আমার বন্ধুটি মায়ের মতো। ধৈর্য, আমাকে অনুরোধ করেছিল নিজের মতো একজন প্রাপ্তবয়স্কের মতো জেগে ওঠতে, সাহসী ব্যক্তির মতো- আমার স্বপ্নে,আমার বন্ধু আমাকে তিরস্কার করে। আমরা একই রাস্তায় হাঁটছিলাম, শুধু শীতকাল ব্যতীত; সে আমাকে বলছে যে যখন তুমি বিশ্বকে ভালোবাসো তখন তুমি স্বর্গীয় সঙ্গীত শুনতে পাও তাকাও,সে বলে। আমি যখন তাকাই, কিছুই দেখি না। কেবল মেঘ,তুষার, গাছে একটি সাদা আচল নববধূগুলি একটি দুর্দান্ত উচ্চতায় লাফিয়ে পড়ার মতো- তারপরে আমি তার জন্য ভয় পাই; আমি তাকে দেখেছি ইচ্ছাকৃতভাবে পৃথিবীর উপর ফেলে দেওয়া জালে ধরা পড়ে যায়- বাস্তবে আমরা রাস্তার পাশে বসে সূর্যাস্ত দেখছি; মাঝেমাঝে একটি পাখির কাকলিতে মৌনতার ব্যবচ্ছেদ হয়। এই মুহুর্তে আমরা সত্যটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি যে আমরা নির্জনে মৃত্যুর সাথে স্বাচ্ছন্দ্যে আছি। আমার বন্ধু ময়লার মধ্যে একটি বৃত্ত আঁকে; ভিতরে,শুঁয়োপোকা নড়াচড়া করে না। তিনি সর্বদা কিছু সুন্দর,একটি চিত্র তৈরির চেষ্টা করছে তার থেকে পৃথক জীবনের সক্ষম। আমরা খুব শান্ত । এটি শান্ত এখানে নৈঃশব্দ বিরাজ করে,শুরের মূর্চনাটি স্থির, রাস্তা হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায়, বাতাস শীতল হচ্ছে, এখানে সেখানে শিলাগুলি চকচকে এবং ঝকঝক করছে- এই নৈঃশব্দকে আমরা উভয়েই ভালবাসি। রূপের ভালবাসাই সমাপ্তির ভালবাসা। শীতের শেষে স্থির বিশ্ব জুড়ে,একটি পাখি ডেকে যায় কালো ডালের মধ্যে একাকী জেগে। তুমি জন্ম নিতে চেয়েছিলে; আমি তোমাকে জন্ম দিতে দেই তোমার আনন্দের পথে? আমার দুঃখ কবে থেকে গেছে? আলো-আধারিতে সামনে ডুবে গিয়ে একই সময় সংবেদনের ইচ্ছারা জাগে যেমন ছিলে নতুন কিছু তুমি চেছেয়েছিলে সমস্ত উচ্ছ্বলতা ও উজ্জ্বলতায় নিজেকে জানান দিতে কখনই ভাবছি না এটি তোমার জন্য কিছুর মূল্য হবে, কখনই কল্পনা করছি না আমার কণ্ঠের শব্দটি কোন কিছুর মতো তোমার অংশ হবে- অন্য পৃথিবীতে তুমি শুনতে পাবে না, স্পষ্টও নয় আবার, পাখির ডাকে বা মানুষের বিলাপে, কেবল পরিষ্কার শব্দ নয় অবিরাম প্রতিধ্বনি সমস্ত রব যার অর্থ হল বিদায়, বিদায় একটি অবিরাম মিছিল আমাদের একে অপরকে বেঁধে ফেলে। উপত্যকাটি বহু বছর ধরে,তাদের দেহ থেকে ধীরে ধীরে পশম, অদৃশ্য হয়ে গেল উজ্জ্বল আলোতে তারা না দাঁড়ানো পর্যন্ত পরস্পরের কাছে ছিল তারা আগুন্তক। আগের মতো কিছুই ছিল না। তাদের হাত কাঁপছিল পরিচিত হওয়ার জন্য। সফেদ মাংস থেকে তারাও চোখ রাখতে পারেনি যেটি স্পষ্টভাবে আহত করেছিল একটি পৃষ্ঠায় শব্দের মতো। এবং অর্থহীন বাদামী সবুজ থেকে অবশেষে ঈশ্বর জেগে উঠলেন, তাঁর মহান ছায়া তাঁর সন্তানদের নিদ্রিত দেহগুলি অন্ধকার করে দিয়ে, তারপর স্বর্গে লাফ দিলেন। কী সুন্দর! মর্ত্য প্রথমবারের মতো আকাশ থেকে দেখেছে, দ্য ওয়াইল্ড আইরিস আমার কষ্টের শেষে একটি দরজা ছিল। আমার কথা শোনে: যাকে তুমি মৃত্যু বলেছো আমার মনে পড়ে । মাথার উপর,স্থানান্তরিত পাইনের ডালপালাগুলির আলোড়ন। তারপর কিছুই নেই। মৃদু সূর্য শুকনো পৃষ্ঠের উপরে ঝাঁকুনি দিয়ে যায়। বেঁচে থাকা ভয়ঙ্কর মনে হয় অন্ধকার পৃথিবীতে সমাহিত হলাম। তারপর এর শেষ হলো: যা তোমরা ভয় করছো একটি অক্ষম আত্মা হতে, কথা বলতে, হঠাৎ শেষ হয়ে,কঠিন পৃথিবীকে একটু বাঁকাতে। আর আমি পাখি হয়ে নীচু ঝোপঝাড়ে ছুটাছুটি করছি। তোমরা যারা অন্য পৃথিবী থেকে উৎসারিত পথ মনে রেখ না আমি তেমাদেরকে বলি আমি আবার কথা বলতে পারব:যাই হোক না কেন বিস্মৃতি থেকে ফিরে আসে একটি শব্দকে খুঁজে নিতে: আমার জীবনের কেন্দ্র থেকে একটি দুর্দান্ত ঝর্ণা প্রবাহিত হল নীচে সমুদ্র জলের, গাঢ় নীল ছায়া। # লুইস গ্লুক’এর আরও কিছু কবিতা :: ভাষান্তর : লায়লা ফারজানা শুরুতে একটি ভূমিকা— আর তারপর অব্যবহৃত, কবর। দূরের দ্বীপে,আমার মায়ের হাতে ছোট্ট কেকের প্লেট— যতদূর মনে পড়ে, সেই অবিকল— বদলায়নি একটুও, উজ্জ্বল আর অক্ষত সেই মুহূর্ত— রোদে ঝলসে যায়নি একটুও, তাই আমি জেগে উঠেছি, সুখে, এ বয়সেও জীবনের প্রতি ক্ষুধা আর পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে— টেবিলের পাশে নতুন ঘাসের ফালি, ফ্যাকাশে সবুজের টুকরা হয়ে গাঢ় মাটির রঙে মিশে যায়। আমি নিশ্চিত বসন্ত আবার ফিরে এসেছে আমার কাছে, এবার প্রেমিক হয়ে নয়, মৃত্যুর বার্তাবাহক হয়ে, তবুও যে বসন্ত তাই বুঝি কোমল। ইচ্ছাটি (The Wish) মনে আছে সেই সময়টা? যখন তুমি কিছু ইচ্ছা করেছিলে? আমারও অনেক কিছু চাওয়ার আছে। সেই সময় আমি তোমাকে যে প্রজাপতিটার কথা বলেছিলাম সেটা মিথ্যা ছিল। আমি সব সময় ভাবতাম তুমি কী চাও? তুমি কী চেয়েছিলে সেদিন? তুমি কী মনে কর? আমি কী চেয়েছিলাম? আমি জানি না। যে আমি ফিরে আসব কিনা, যে আমরা শেষ পর্যন্ত একসাথে থাকব কিনা। আমি তাই চাই—যা সব সময় চেয়েছি । আমি চেয়েছিলাম অন্য একটি কবিতা। রূপালি পদ্ম (The Silver Lily) আবারও রাতগুলো শীতল, প্রথম বসন্তের রাতের মতো, আবারও শান্ত। কথা বললে কি বিরক্ত হবে? আমরা এখন একা; আমাদের চুপ থাকার কোনও কারণ নেই। তুমি কি দেখতে পাচ্ছ, বাগানে পূর্ণিমার চাঁদ। পরের পূর্ণিমা আমার আর দেখা হবে না। বসন্তে, যখন চাঁদ উঠেছিল, তখন সময় ছিল অফুরন্ত। সাদা জলপ্রপাতের মতো ঝরছিল তুষারের ফুলকুঁড়ি আর মেপলবীজের গুচ্ছ। সাদার ওপর সাদা, বার্চ গাছের উপরে সাদা চাঁদ। আর সে বৃত্তাকার চক্রে, যেখানে গাছটি, চাঁদের নরম সবুজ-রূপালি আলোয়, খণ্ডিত ছিল প্রথম ড্যাফোডিলের পাতা। অনেক দূরে চলে এসেছি আমরা একসাথে— জীবনের একদম শেষ প্রান্তে—শেষের ভয় করেছে গ্রাস। এমনকি এই রাতগুলিতে, আমি এখনও নিশ্চিত নই সমাপ্তির অর্থ কী। আর তুমি, যে ছিলে একজন পুরুষের সাথে— প্রথম কান্নার পর, আনন্দও কি ভয়ের মতো নিশ্চুপ হয়ে যায় না? সান্ধ্যকালীন প্রার্থনাগুলো (Vespers) তোমার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে, তুমি আমাকে দিয়েছ পৃথিবীকে ব্যবহারের অনুমতি, প্রত্যাশিত বিনিয়োগে কিছু ফেরৎ। অবশ্যই আমাকে বিবৃত করতে হবে আমার ব্যর্থতা, মুখ্যতঃ টমেটো গাছগুলো সম্পর্কে। আমি মনে করি আমাকে টমেটো-চাষাবাদে উৎসাহিত করা উচিত নয়। আর যদিও বা করি, তোমাকে প্রতিরোধ করতে হবে প্রবল বৃষ্টি, শীতল রাত—যা এখানে প্রচলিত—প্রায়ই আসে অন্য অঞ্চলে যখন গ্রীষ্মের বারো সপ্তাহ। এই সবই তোমার; অথচ বীজ রোপণ করেছি আমি, মাটি ছিঁড়ে ডানা মেলার মত প্রথম অঙ্কুর দেখেছি আমি, এবং ওটা ছিল আমার হৃদয়—ব্লাইটের আঘাতে ভাঙা, গুণিতক হারে বাড়ছিল কালো দাগগুলি—কাতারে কাতারে। আমি জানি, সে বোধকে বোঝার মতো হৃদয় তোমার নেই। আমি জানি, তোমার মতো যারা— মৃত আর জীবিতের মধ্যে কোনও তফাৎ করো না পূর্বাভাসে তারা দায়মুক্ত, নিরাপদ। অথচ তুমিই জান না কতটা ত্রাস আমরা বুক পেতে নিই, কতটা সন্ত্রাস সহ্য করি, কতটা আতঙ্কিত হই পাতায় একটি সামান্য ক্ষতে, এমনকি হেমন্তের প্রথম অন্ধকারে; যখন মেপলের লাল পাতা ঝরে; আমি দায়বদ্ধ— সেই ঝরা লতাগুলোর কাছে। বুনো আইরিস (The Wild Iris) আমার তীব্র কষ্টের শেষে ছিল একটি খোলা দরজা। আমার কথা শুনুন: আমি মনে করি সেটিই ছিল যাকে আপনারা বলেন— মৃত্যু। ঊর্ধাকাশে, আওয়াজ, স্থানান্তরিত পাইনের শাখা। তারপরে কেবল শূন্যতা। খরখরে ভূ-পৃষ্ঠে দুর্বল সূর্যের ঝাপসা আলোর আভা। তাই ভয়াবহ এই বেঁচে থাকা অন্ধকার পৃথিবীতে সমাহিত যখন চেতনা । তারপরে সমাপ্তি : যা আপনাদের ভয়, একটি আত্মা এবং অক্ষম কথা বলার চেষ্টা, হঠাৎ ফুরিয়ে যাওয়া, দুর্ভেদ্য পৃথিবীর একটু শিথিলতা । আর আমি হতে চেয়েছি বুনোলতার নীচু ঝোপে তীরবিদ্ধ পাখিদের মতো। আমি বলছি, আপনারা ভুলে গেছেন সেই পথ, ছিন্ন করেছেন এই পৃথিবীর সাথে সেই পৃথিবীর যোগাযোগ। তবুও আমি আবারও বলতে চাই: বিস্মৃতি থেকে ফিরে আসা একটি কণ্ঠস্বর, একটি আওয়াজকে খুঁজে পেতে: আমার জীবনের কেন্দ্র থেকে উৎসারিত একটি অদম্য ঝর্ণা, গভীর নীল সমুদ্রে গভীর নীল ছায়া। # * লুইস গ্লুক এর আরও কিছু কবিতা অনুবাদঃ অনিমিখ পাত্র ১). নকটার্ন মা মারা গেছে গত রাতে, মা যে কখনও মরে না। শীতকাল ছিল বাতাসে এখনও অনেক দূর কিন্তু তবুও শীতকাল ছিল বাতাসে। মে মাসের দশ তারিখ ছিল হায়াসিন্থ আর আপেল ফুল ফুটেছিল পেছনের বাগানে। আমরা শুনতে পাচ্ছিলাম মারিয়া গান গাইছে চেকোশ্লোভাকিয়া থেকে – আমি কত একা – এই ধরণের গান। আমি কত একা মা নেই, বাবা নেই – আমার মাথা যেন কী ফাঁকা তাদের ছাড়া সুগন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে মাটি থেকে; থলাবাসনগুলো সিঙ্কে, ধোওয়া কিন্তু এখনও গুছিয়ে রাখা হয়নি। পূর্ণ চাঁদের নিচে মারিয়া কাচা জামাকাপড় ভাঁজ করছিল শক্ত কাপড়গুলো হয়ে গেল শুকনো সাদা জ্যোৎস্নার আয়তক্ষেত্র। আমি কী একা, কিন্তু সঙ্গীতে আমার একাকীত্বই আমার আনন্দ। সেটা ছিল মে মাসের দশ তারিখ ঠিক যেমনটা ছিল ন’তারিখ, আট তারিখ। মা তার বিছানায় ঘুমোচ্ছিল তার হাতগুলো ছড়ানো, তার মাথা তার মাঝখানে ভারসাম্যে রাখা। ২). মা ও শিশু আমরা সবাই স্বপ্নদ্রষ্টা, আমরা জানি না আমরা কারা কোনো মেশিন আমাদের তৈরি করেছিল, এই দুনিয়ার মেশিন, বেঁধে রাখা পরিবার। নরম চাবুকে ঘষামাজা হয়ে, তারপর দুনিয়ায় ফেরৎ যাওয়া। আমরা স্বপ্ন দেখি; আমরা মনে রাখি না। পরিবারের মেশিনঃ অন্ধকার লোমশ ফার, মাতৃদেহের অরণ্য মায়ের মেশিন মায়ের ভেতরে সাদা শহর। এবং তার আগে মাটি আর জল। পাথরের মাঝে মস, পাতা আর ঘাসের টুকরো। আরও আগে বিরাট অন্ধকারের মধ্যে কোষগুচ্ছ এবং তারও আগে পর্দাঢাকা পৃথিবী। এই কারণেই তোমার জন্মঃ আমাকে চুপ করিয়ে দেবার জন্য। আমার মায়ের আর বাবার কোষ, এখন তোমার পালা মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠার, মাস্টারপিস হয়ে ওঠার। আমি সহসা উদ্ভূত, আমি কক্ষনও মনে রাখিনি। এখন তোমার চালিত হওয়ার পালা; তুমিই সে যার জানবার দাবি আছে আমি কেন কষ্ট পাই? আমি কেন কিছু জানি না? বিরাট অন্ধকারে স্থিত কোষগুচ্ছ। কোনো মেশিন আমাদের তৈরি করেছিল। এবার তোমার ডাক দেবার পালা, জিজ্ঞেস করার পালা কীসের জন্য আমি? কীসের জন্য আমি? ৩). শীতের শেষে স্থির এই পৃথিবীতে, কালো বৃক্ষশাখার মধ্যে একা জেগে উঠে ডাকে পাখি। জন্ম নিতে চেয়েছিলে তুমি, আমি তোমাকে জন্ম নিতে দেব। তোমার খুশির পথে কখনই বা আমার শোক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলো? একইসঙ্গে ডুবে গিয়ে অন্ধকার আর আলোয় সংবেদনের জন্য উন্মুখ যেন তুমি নতুন একটা জিনিস, নিজেকে প্রকাশ করতে চাইছ সব চমৎকারিত্ব, সব প্রাণবন্ততা কখনও ভাবনি যে তোমাকে কিছু মূল্য চোকাতে হতে পারে, তুমি কখনও কল্পনা করোনি আমার কন্ঠস্বর তোমার অংশ ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে – অপর জগতে তুমি তাকে শুনতে পাবে না আর কক্ষনও পরিষ্কারভাবে পাবে না, কোনো পাখির ডাকে বা মানুষের কান্নায়। কোনো পরিষ্কার আওয়াজ নয়, কেবল সমস্ত শব্দের নাছোড় প্রতিধ্বনি যার মানে বিদায়, বিদায় – এক অবিচ্ছিন্ন রেখা যা আমাদেরকে একে অপরের সঙ্গে বেঁধে রাখে। # অনুবাদ : খোরশেদ আলম কৃতজ্ঞতা আমার প্রতি তোমার এতটুকু করুণার জন্য মনে করো না যে আমি কৃতজ্ঞ নই। আমি খর্বাকৃতির করুণা পছন্দই করি, বরং বৃহৎ আকারের চেয়েও এইসব করুণা আমার বেশিই প্রিয়, যা তোমাকে চোখে চোখে রাখে, নেকড়ের জ্বলজ্বলে দৃষ্টির মতো, অপেক্ষায় জাগিয়ে রাখে দিনের পর দিন নিঃশেষ হবার আগ পর্যন্ত। বিদায় চোখ ভরা জল নিয়ে বাবা দাঁড়িয়ে আছেন প্ল্যাটফর্মে জানালার দৃষ্টি গলে তাঁর মুখমণ্ডলে নিবুনিবু আলো— যেন অতীতের ভুলে যাওয়া অন্য একজন। তার ছায়া মুখে মেখে নিয়ে সহসাই তিনি ঘুরে দাঁড়ালেন আর মন দিলেন পাঠে। জীবনের অভ্যস্ত রুটিনে অপেক্ষার ট্রেন সেখানে ধোঁয়াটে নিঃশ্বাস ছাড়ে। অনুবাদ: সুজিত মান্না শিকারি অন্ধকার রাত – রাস্তাগুলি ঘিরে ধরে আছে কতকগুলি বিড়াল বিড়াল এবং তাদের শিকারসামগ্রী – বিড়ালগুলি তার পাহাড়ি পূর্বপুরুষের মতই দ্রুত দৌড়োতে পারে ঠিক তাদের মতই ক্ষুধার্ত। কোথাও কোনো চাঁদ নেই। রাত্রিটা ঠান্ডা হয়ে আছে– এই রাতকে উত্তাপ দেওয়ার জন্য কোনো চাঁদ জেগে নেই। গ্রীষ্ম বেরিয়ে গেছে পথে অনেক দূর অনেক শিকার-ই বাকি পড়ে আছে ইঁদুরগুলি বসে আছে শান্ত হয়ে, বিনিদ্র ঠিক বিড়ালগুলির মতো। এই বাতাসের গন্ধ নাও – এই নিশ্চল রাত এক ভালোবাসার রাত ক্ষণে ক্ষণে রাস্তার ভেতর চিৎকার উঠে আসছে যেখানে বিড়ালগুলি তাদের দাঁত বসিয়ে দিচ্ছে ইঁদুরগুলির পায়ে যখনই ইঁদুরগুলি চিৎকার তুলছে, তাদের মৃত্যু হচ্ছে। এই চিৎকার যেন একটি নকশা এমন একটি নকশা যেটা বিড়ালগুলিকে বলে দিচ্ছে কোথায় বসাতে হবে থাবা। তারপর সেই সব চিৎকার জুড়ে উঠে আসছে মৃত্যু এমনই এক রাতের ভেতর তুমি ভালোবাসা পাচ্ছো – এ বড়ো সৌভাগ্যের তোমার শরীর বিছানায় বিবস্ত্র হয়ে শুয়ে থাকার মতো উত্তাপ নিয়ে বসে আছে ঘামছে – এসব কিছু তো পরিশ্রম, ভালোবাসার ফল, ভুলে যাও মানুষ কী কী বলে ফিসফাস করে মৃত ইঁদুরগুলি পড়ে আছে রাস্তার ওপর – বিড়ালগুলি তাদের দেহ রেখে গেছে এখানেই খুশি হও তোমাকে আজ এই রাস্তার ওপর থাকতে হয়নি এখনই রাস্তাপরিষ্কারকরা এসে তাদের সরিয়ে দেবে। সূর্য উঠলেই কেউ আর এইসব দেখে হতাশ হবে না সূর্য উঠলেই পরবর্তী দিন ও রাতের জন্য আবার সুন্দর হয়ে উঠবে রাস্তাগুলি শুধু খুশি হও তুমি বিছানায় আছো যেখানে ভালোবাসার চিৎকারগুলো ডুবিয়ে রাখছে সমস্ত মৃত্যুর শব্দগুলিকে সূর্যাস্ত সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথেই একজন খামার-শ্রমিক মৃত পাতাদের পুড়িয়ে ফেলছে এটি এমন কোনো বড়ো ঘটনাই নয়, একটুকু আগুনই তো শুধু স্বৈরাচারী শাসকের হাতে লালিত একটি পরিবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ছোট একটি জিনিস মাত্র, তবুও, যখনই এটা জ্বলে উঠছে, শ্রমিকটি উধাও হয়ে যাচ্ছে রাস্তার ওপর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সে সূর্যের তুলনায় এইসব আগুন নেহাতই ক্ষণজন্মের এবং কোনোদিনই তারা পেশাদার হতে পারবে না – যোগান শেষ হয়ে এলে তাদের মৃত্যু দাঁড়িয়ে দেখি। তারপর লোকটি আবার ফিরে আসে – ছাইগুলিকে একজোট করে। এইসব কিছুর পরেও মৃত্যুই একমাত্ৰ সত্য। যেন মনে হয় – সূর্য যে জন্য এসেছিল, সব কাজ শেষ করে ফেলেছে জমিতে শস্যদের বাড়তে দিয়েছে – তারপর তাদের পুড়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করে গেছে তাই সূর্যের এখনই চলে যাওয়ার সময় এসেছে। জ্বলে থাকা পাতা শুকনো পাতারা দ্রুত আগুনে জ্বলে যায়। তারা পুড়ে যায় দ্রুত, ক্ষণিকের মধ্যেই কোনো একটি অবস্থা থেকে শূন্যতে এসে থামে এখন মধ্যদুপুর। নীল আকাশটা ঠান্ডা হয়ে আছে আগুনের নীচে ধূসর হয়ে আছে পৃথিবী যত দ্রুত এগুলো হারিয়ে যাবে, পৃথিবীর ধোঁয়া ততটাই তাড়াতাড়ি পরিস্কার হয়ে আসবে পাতার স্তুপ করা জায়গাটিতে হঠাৎ এই শূন্যতাটিকেই বিশাল আকারের মনে হবে রাস্তা বরাবর দাঁড়িয়ে একটি ছেলে এইসব দেখছে দীর্ঘ সময় ধরে সে এই পাতাদের পুড়ে যাওয়া দেখে চলেছে হয়তো এভাবেই তুমিও পৃথিবীটাকে মরে যেতে দেখবে– দেখবে এটা এভাবেই জ্বলে যাচ্ছে। অনুবাদ: অমিতাভ পাল অনুভূতি থাকা লাল পপি মন না থাকলেও হয়, বড় কথা হলো- অনুভূতি থাকা; আমার সেগুলি আছে এবং ওরাই আমাকে চালায়। স্বর্গে আমার প্রভুর নাম সূর্য, আমি আমার হৃদয়ের আগুন তাকে দেখাই- এই আগুনই আমার ভিতরে তার উপস্থিতির কথা বলে। কিন্তু যদি হৃদয় না থাকে তাহলে? ভাই বোনেরা- মানুষ হবার বহু আগে আমাকে কি পছন্দ করেছিলে তোমরা? তোমরা কি নিজেকে খোলার অনুমতি দিয়েছিলে এবং তারপর আর কখনো খোলোনি? এটা এজন্যই বলছি, কারণ এখন তোমাদের মতোই আমি কথা বলি। আমি কথা বলি কারণ আমি ছিন্নভিন্ন। অনুবাদ: নন্দিনী সেনগুপ্ত ইচ্ছে (‘দ্য উইশ’ কবিতা অবলম্বনে লেখা) মনে আছে তোমার, সেবারে তুমি ঠিক কি কামনা করেছিলে? আমি গুচ্ছের জিনিসের জন্য মানত করি, মনে মনে সংকল্প করি। সেবারে ঐ প্রজাপতির ব্যাপারে আমি তোমাকে মিছে কথা বলেছিলাম। আমি সবসময় আশ্চর্য হয়ে ভাবি যে তুমি ঠিক কী কারণে মানত করো! আমি কী চেয়েছি তুমি জানো? কী ভেবেছ? নাহ, আসলে আমিও ঠিক জানিনা। ভাবি ফিরে আসবো। ভাবি শেষমেষ যেভাবেই হোক, আমাদের মিলন হবে। অবশ্য আমি সেটাই চেয়েছিলাম, যেটার জন্য আমি সবসময় মানত করে থাকি। আমি আরেকটা কবিতা চেয়েছিলাম। অনুবাদ: ফারহানা আনন্দময়ী সুখ দুজন শুয়ে আছে রাত্রির কোলে সাদা বিছানার চাদরে শুয়ে আছে দুজন মানুষ। ভোর খুব কাছে, এইবার ওদের ঘুম ভাঙবে মাথার কাছে লিলি জাগছে ফুলদানিতে সূর্যের আলো ওদের পানপাত্রে তৈরি— এখনই চুমুক দেবে। পুরুষটি পাশ ফিরল, কোমল স্বরে ডাকল সঙ্গীকে পর্দাটা দুলে উঠল, গেয়ে উঠল পাখিদল নারীটি এবার পাশ ফিরল, আর তার সর্বাঙ্গ তপ্ত হলো সঙ্গীর নিশ্বাসে। চোখ খুললাম আমি… সূর্যেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘরময় আমি তোমার মুখের দিকে তাকালাম, আয়নায় দেখতে পেলাম আমাকেই। আমরা স্থির; শুধু সূর্যটা আমাদের যেতে থাকল পেরিয়ে, আলো ছড়াতে ছড়াতে। অনুবাদ: অহ নওরোজ অল হ্যালোজ এমনকি এখন দৃশ্যগুলো মিলিয়ে যাচ্ছে অন্ধকার হয়ে আসছে পাহাড়, ষাঁড়গুলো তাদের নীল জোয়ালে নুয়ে পড়ছে। মাঠগুলো যেন গুছিয়ে রাখা। নতুন চাঁদ উঠছে বলে চারপাশে ফুটেছে হলুদ সিঙ্কফয়েল— তার ভেতর পথের সীমানায় গাদা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভেড়াগুলো। ফসলের বিরানকাল আসে এভাবে, যেনবা মড়ক লেগেছে। মহিলারা জানালায় ঝুঁকে এসে বাড়াচ্ছে হাত কিছু পাওয়ার আশায়— আর শস্য ও মুদ্রাগুলো ডাকছে তাদের এদিকে এসো, এদিকে এসো গাছ থেকে আত্মা বেরিয়ে আসে শিরশির করে। ডিসেম্বরের শুরুতে ক্রোটন-অন-হাডসনে* ম্লান রোদে হাডসনের বরফ জমে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। হাড়ের ভেতর শুনছি ঠনঠন শব্দ— মাত্রই ঝরে যাওয়া ধূসর বরফগুলো নদীর পশম হয়ে গেছে, স্থির। গত বছর যেদিন গাড়ির চাকা অচল হয়েছিলো আজ ঠিক সেদিনই ছুটছি আমরা ক্রিসমাসের উপহার বিলাতে। প্রবল ঝড়ে তারের উপর ভেঙে পড়েছে পাইনের ডালপালা… আমি তোমাকে চাই। *ক্রোটন-অন-হাডসন একটি স্থানের নাম। # (এ ছাড়াও আরও কিছু অনুবাদ কবিতা লুইস গ্লৃক-এর) ১). সুখ একটি সফেদ শয্যায় একজন মানব ও মানবী শুয়ে আছে। এটা ভোর,আমি মনে করি শীঘ্রই তারা জেগে উঠবে, শয্যার পাশে টেবিলের উপর একটি ফুলদানি। শালুকের সূর্যালোকে তাদের গলায় ঝর্ণা বয়ে যায়, তার দিকে ঘুরে আমি তাকে দেখি যেন তার নাম ধরে ডাকি। কিন্তু নৈঃশব্দের গভীরে তার মুখ- জানালার শার্শীতে একসাথে একবার, দুবার, একটি পাখি ডাকছে, এবং তারপর সে আড়মোড়া দিয়ে জাগে নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে ভরে নেয় দেহ, আমি চোখ খুলছি, তুমি আমাকে দেখছো। প্রায় পুরো কক্ষে রোদ ঝলমলে। তোমার মুখের দিকে তাকাতে বললে, তোমাকে ছুঁয়ে নিজেকে আয়না বানাতে আরও কাছে এনে রেখেছি, তুমি কত শান্ত! এবং বামিং হুইল রোডটি আলতো করে আমাদের উপর দিয়ে চলে যায়। ২) .তুষারপাত তুমি কি জানো আমি কী ছিলাম, কেমন ছিলাম? তুমি জানো হতাশা কি? তারপর তোমার জন্য শীতের অর্থ থাকা উচিত। আমি বেঁচে থাকার আশা করিনি, পৃথিবী আমাকে দমন করছে। আমি আশা করিনি. আবার জেগে ওঠার, অনুভব করার, স্যাঁতসেঁতে পৃথিবীতে আমার দেহ স্মরণ করে আবার সাড়া দিতে সক্ষম হবে। এতদিন পর আবার কীভাবে খুলবো শীতল আলোতে নব বসন্ত, ভয় করছো,এখনও,কিন্তু আবার তোমার মধ্যে বিলাপ, হ্যাঁ,বিপদের মধ্যে আনন্দও আছে নতুন বিশ্বের দুর্মর বাতাসে। ৩). আদিম অন্ধকার তোমরা কিভাবে বলতে পারো পৃথিবী আমাকে আনন্দ দেবে? প্রতিটি জিনিসই আমার বোঝা আমি তোমাদের সবার সাথে সফল হতে পারি না। এবং তোমরা আমাকে থামিয়ে দিতে চাও, তোমরা আমাকে বলতে চাও তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে মূল্যবান, কে আমার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এবং তোমরা একটি উদাহরণ হিসাবে তুলছো বিশুদ্ধ জীবন বিচ্ছিন্নতা অর্জনের তোমরা সংগ্রাম করছো। তোমরা আমাকে কীভাবে বুঝতে পার নিজেরাই যখন বুঝতে পার না? তোমাদের স্মৃতিশক্তি যথেষ্ট প্রখর নয়- তোমরা কখনই ভুলো না তোমরা আমার সন্তান, একে অপরকে ছুয়েঁ আছো বলে কষ্ট পাচ্ছ না। তবে তোমরা জন্মগ্রহণ করেছো বলে কারণ তোমাদের আব্যশক জীবন আমার থেকে পৃথক। ৪). প্রেমের কবিতা সবসময় ব্যথা থেকে কিছু তৈরি করা যায়। তোমার মা বুনে যায়, সে লাল রঙের প্রতিটি ছায়ায় স্কার্ফ বের করে। তারা ক্রিসমাসের জন্য ছিল এবং তারা তোমাকে আদরে রেখেছিল যখন তোমাকে সাথে নিয়ে সে একের পর এক বিয়ে করে যাচ্ছিল, এটা কিভাবে পারছিল? যখন সমস্ত বছরগুলো সে তার বৈধব্য হৃদয়ে জমা রেখেছিল যখন মৃত্যুর প্রত্যাবর্তন হয়েছিল, অবাক হওয়ার কিছু নেই, তুমিও সেই পথের পথিক। রক্ত হিম হয়ে আসে, তোমার মা একের পর এক ইটের দেয়ালের মতো। ৫). ডুবে যাওয়া শিশুরা তোমরা দেখো,তাদের কোন বিবেচনাবোধ নেই। সুতরাং তাদের ডুবে যাওয়া স্বাভাবিক, প্রথমে তুষার তাদের ভিতরে নিয়ে যাবে এবং তারপরে, সমস্ত শীতকালে, তাদের পশমের স্কার্ফ ডুবে যাওয়ার সাথে সাথে তাদের পিছনে ভেসে বেড়াচ্ছে, তারা নি:সাড় হওয়া পর্যন্ত । এবং পুকুরটি তার অজস্র তমস বাহু দিয়ে তাদের তুলে দেয়। কিন্তু মৃত্যু অবশ্যই তাদের কাছে ভিন্নভাবে আসবে, শুরুতে এত কাছে, যেন তারা সর্বদা ছিল অন্ধ এবং ওজনহীন। অতএব বাকিরা স্বপ্ন দেখে, লন্ঠন সফেদ কাপড়, টেবিলটিকে ঢেকে দেয়,ঢেকে দেয় তাদের দেহগুলো, এবং এখনো তারা তাদের ডাকা নামগুলি শুনে লোরের মতো পুকুরে পিছলে পড়ে যায়; তুমি কিসের জন্য অপেক্ষা করছো ঘরে এসো, ঘরে এসো, নীল আর স্থায়ী জলে,বিলীন হয়ে গেলো তারা। ৬). মশকরা কমলা তোমাকে বলছি, এটি চাঁদ নয়। এইগুলি সেই ফুল যেগুলো উঠোনকে আলোকিত করছে। আমি তাদের ঘেন্না করি। আমি তাদের ঘেন্না করি,যেমন ঘেন্না করি যৌনতাকে, লোকটির ঠোঁটকে, নিজের মুখটিকে সেলাই করে দিয়ে,নি:সাড় করি লোকটির দেহ এবং সর্বদা বলাৎকারের উঠোন থেকে দল বেধেঁ নিচু হয়ে চিৎকার পালিয়ে যায়, আজ রাতে মনের মধ্যে একটি প্রশ্নটি শুনেছি এবং উত্তরটির পেছনে ধাবিত হচ্ছি, এক শব্দে মিশ্রিত জবাবটি আরোহণ করছে আর করছে এবং তারপর বার্ধক্য নিজেদের মধ্যে গড়িয়ে পড়ছে। ক্লান্ত বৈরিতা। তুমি কি দেখছো? আমরা বোকা হয়ে গেছি। এবং মশকরা কমলার সুঘ্রাণ চড়িয়ে যাচ্ছে জানালা দিয়ে। আমি কীভাবে বিশ্রাম নিতে পারি? আমি কীভাবে খুশি থাকতে পারি? যখন এখনও পৃথিবীর মধ্যে সেই গন্ধ চড়িয়ে যাচ্ছে। ৭). পুকুর রাত্রি তার ডানা দিয়ে ঢেকে রাখে পুকুরটিকে। বৃত্তাকার চাঁদের নীচে আমি তোমার চেহারা বানাতে পারি তোমার মুখ ছোট এবং ক্ষুদ্র প্রতিধ্বনিত নক্ষত্রের মধ্যে সাঁতার কাটছে। রাত্রির হাওয়ায় পুকুরের পৃষ্ঠটি ধাতু হয়ে যায়। তোমার খোলা লোচনে আমি তাদের একটি স্মৃতি চিহ্নিত করতে পারি, যেমন আমরা একসাথে শিশু ছিলাম। আমাদের ঘোড়াগুলো পাহাড়ে চরছিল, ধূসর রঙের ওপর তাদের শাদা দাগ ছিল । তারা এখন মৃতের মতো ঘাস খাচ্ছে, তাদের গ্রানাইট স্তনের প্লেটগুলির নীচে, সুন্দর এবং অসহায় বাচ্চাদের মতো যারা অপেক্ষা করছিল: পাহাড়গলো অনেক দূরে। তারা উঠে যায় শৈশবের চেয়ে অধিকতর কালো জলের মধ্যে নিরবে শুয়ে থেকে,কি ভাবছো? যখন তুমি চেয়ে থাকো ঐ পথের দিকে, অন্য এক জীবনে আমরা একই রক্তের ছিলাম দেখে, আমি তোমাকে ছুঁতে চাই, কিন্তু পারিনা। ৮). জ্ঞান তারা দুজনেই ছিলেন নিরব-নিস্তব্দ, মহিলাটি শোকগ্রস্ত, পুরুষটি তার দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। কিন্তু ঈশ্বর দেখছিলেন। তারা তাঁর অভ্রলোচন অনুভব করেছিল প্রাকৃতিক দৃশ্যে পুষ্প উন্নয়ন দেখে। কে জানতো তিনি কি চেয়েছিলেন তিনি ছিলেন ঈশ্বর এবং প্রকান্ড তাই তারা অপেক্ষা করেছিল এবং এই পৃথিবী তিনি প্রজ্ঞা দিয়ে পরিপূর্ণ করেছিলেন যেমন করে তিনি বুঝতে চেয়েছিলেন। অনেক দূরে, তিনি যে শূন্যতা রচনা করেছিলেন সেখানে তিনি তাঁর ফেরেশতাদের দিকে ফিরে গেলেন। ৯). নিশাচর একটি বন পৃথিবী থেকে উত্থিত। হে করুণাময়, তাই প্রয়োজন ’ঈশ্বরের উষ্ণ ভালবাসা তারা একসাথে জন্তু ছিল। তাঁর অবহেলার সন্ধ্যায় একসাথে শুইয়ে থাকে; তাদের আতঙ্ক পাহাড় থেকে যান্ত্রিকভাবে নেকড়ে এসেছিল তাদের মানবিক উষ্ণতায় আকৃষ্ট হয়ে, তখন ফেরেশতারা দেখলো তিনি কিভাবে তাদের ভাগ করেছেন: পুরুষ, মহিলা এবং মহিলার দেহকে। মন্থিত শিলার উপরে, একটি ধীরে গলে যাওয়া রূপার মধ্যে পাতাগুলো ছেড়ে দাও। ……………………................... [ সংগৃহীত ও সম্পাদিত। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও ঋণস্বীকার - ১).বিপাশা বিনতে হক ২).পান্থজন জাহাঙ্গীর ৩).কবি লায়লা ফারজানা ৪).অনিমিখ পাত্র ৫).সুজিত মান্না ৬).খোরশেদ আলম ৭).সুপর্ণা সেনগুপ্ত ৮).অমিতাভ পাল ৯).ফারহানা আনন্দময়ী ১০).নন্দিনী সেনগুপ্ত ১১).অন্যআলো ডটকম
Post a Comment