তিনি ছিলেন একজন ব্যারিস্টার ।
অমৃত বাণী ঃ পোস্ট ৫৫
Naseer Ahmed
আমার প্রিয় নেতা ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ( ১৮৯২ -১৯৬৩ ) । বাল্যকালে তাঁর অতি ভক্ত আমার ছোট চাচার হাত ধরে দুই বার কাছাকাছি থেকে তাঁকে দেখার এবং বক্তৃতা শোনার সুযোগ হয়েছে আমার ।
১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর বৈরুতের নির্জন হোটেল কক্ষে মারা যান তিনি । চাচার সাথে তাঁর নামাজে জানাজাতেও গেছি আমি । পরের বছর তাঁর মৃত্যু বার্ষিকীতে দৈনিক ইত্তেফাক একটা বিশাল বিশেষ সংখ্যা বের করে তাঁকে নিয়ে । তাঁর জীবন , কর্ম এবং তাঁকে নিয়ে অন্যদের লেখা নিয়ে ।
প্রায় বিশ বছর এটা আমার সংগ্রহে ছিল ।সেই বিশেষ সংখ্যায় সোহরাওয়ার্দীর লেখা শেষ চিঠিটা সন্নিবেশিত ছিল । তিনি ছিলেন একজন ব্যারিস্টার । চিঠিটা তিনি লিখেছিলেন তাঁর জুনিয়র হজরত আলীকে । চিঠিতে একটা অংশ ছিল , ' যদি আমি কারও কোনো কাজে না লাগি । তাহলে বেঁচে থেকে কি লাভ ? অপ্রয়োজনীয় হয়ে এই রকম বেঁচে থাকতে আমি চাই না। '
আনন্দ উজ্জ্বল পরমায়ু আমাদের অনেকের চাওয়া । কিন্তু শুধু বাঁচার জন্য বেঁচে থেকে লাভ নাই ।
বেশি দীর্ঘ জীবন পেলে দেখবেন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা শুরু হবে । ওষুধ নির্ভর জোড়াতালির দুঃসহ জীবন হবে আপনার ।
অক্ষম অবস্থায় ডিজিটাল যুগের পরবর্তী প্রজন্মের অবহেলা, অবজ্ঞা এবং নিস্পৃহ উদাসীনতার শিকার হতে পারেন আপনি ।
আপনজন , সমসাময়িক বন্ধু বান্ধব একজন একজন করে বিদায় নিবে পৃথিবী থেকে । দুঃখ বেদনা নিয়ে আপনি নিজের মনে নিজেই পুড়বেন গন্ধবিধুর ধূপের মতো ।
তাই বিছানায় না পড়ে শেষ দিন পর্যন্ত কর্মক্ষম অবস্থায় চির বিদায় নিতে পারাটাই হবে আমাদের প্রত্যেকের কাম্য ।
Post a Comment