মাত্র ঊনচল্লিশ বছরের পরমায়ু নিয়ে এই মূর্খ চাষাভুষোর ভারত ভারতবর্ষটাকে তুমি যে হাতের তালুর মত চিনেছিলে।
তোমাকে লিখছি স্বামীজি
বিশ্বনাথ পাল
তোমাকে।হ্যাঁ তোমাকেই তো লিখতে বসেছি।শীতের রাতে কুয়াশার মেঘ যখন ঘনীভূত।ঘরে বাইরে অতিমারীর দাপট।আবার প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় যখন হাওয়া অফিস নিম্নচাপের নিদান হেঁকেছে তখন তোমাকেই তো লিখব।তুমি বলবে ওরে পাগল।দেশ সেবা যেখানে আত্মসেবা।দরিদ্রের রক্ত নিকড়ে না নিলে বড় নেতা হওয়া যাবে না ।জাতপাতের লড়াই যেখানে বড়াই করার একমাত্র জায়গা।পাঁচ হাজার টাকা পুরোহিত ভাতা আর ইমাম ভাতা দিয়ে দেশের ধর্মটাকে জিঁইয়ে রাখার সু বন্দোবস্ত হয়েছে।পুতুল পুজোর জায়গাটা পাক্কা হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।অনুদান আর ভিক্ষের মধ্যে তাবত ভারতবাসীর ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যাবে।মাতৃদেবী পিতৃদেব বার্ধক্যের বারানসী খুঁজবেন বৃদ্ধাশ্রমে।ছেলেকে অকারণে মিথ্যা বলতে শেখানো হবে পদে পদে, মুখের চেয়ে মুখোশের দাম বেশী।ভণ্ড ধরিবাজ দাগী আসামীর দল গেরুয়া পরে সমাজের বিধান দেবে সেইখানে তোমাকে কেন আমরা অহেতুক টানাটানি করছি?
মাত্র ঊনচল্লিশ বছরের পরমায়ু নিয়ে এই মূর্খ চাষাভুষোর ভারত ভারতবর্ষটাকে তুমি যে হাতের তালুর মত চিনেছিলে।তোমার বেলুড় মঠে চা পানের ব্যবস্থা ছিল এই অজুহাতে ট্যাক্স বসিয়ে ছিল স্থানীয় পুরসভা।তোমার বিশ্বজয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন দেখা গেলেও হীনমন্য বাঙালি তার কাঁকড়ার খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে পারে নি।দেশে তোমার স্ত্রী এবং অনেকগুলি কাচ্ছা বাচ্চা আছে বলে আমেরিকাবাসীর কানে বিষ ঢেলেছিল এই সব তথাকথিত বিদ্বজ্জনেরা ।তাই তোমার সম্বর্ধনা সভায় সেদিনের কোন ব্রাহ্মণ এগিয়ে আসেন নি।যিনি শেষ মেষ শর্তসাপেক্ষে হাজির হয়েছিলেন তিনি তোমাকে "ব্রাদার "সম্বোধন করেছিলেন।স্বামীজি,সন্ন্যাসী বা মহারাজ কথাগুলি তাঁর তালুতে আটকে ছিল।তবুও তুমি পাহাড় প্রমাণ প্রতিবন্ধকতাকে সামনে দেখেও নিঃশব্দে গুরুর নির্দেশ পালন করেছিলে।শিব জ্ঞানে জীবের সেবা --জগতে এই কাজের বিকল্প হয় না।বহুরূপে সম্মুখে ছাড়ি কোথা খুঁজছি ঈশ্বর/জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।
ধর্ম শুধু টিকি দাড়ি আর ঘন্টার তালে সীমাবদ্ধ নেই।প্রেম।অহৈতূকী প্রেম বা ভালবাসাই হচ্ছে জগতের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।গীতার নিষ্কাম কর্ম তোমার কাছে স্বার্থশূন্য কাজ হিসাবেই মর্যাদা পেল।শুধু দিয়ে যেতে হবে।প্রতিদানে পাওয়ার আশা থাকলে কর্ম তখন কর্দমে পরিণত হবে।
রাজনীতির আঙিনায় কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে
দেশের উন্নতি ব্যাহত হবে।নেতৃত্বের উদগ্র বাসনা
নেতৃত্বের বড় বিপদের কারণ হবে।রাজনীতির জন্য মানবিকতার ধর্মকে দূরে সরিয়ে আমরা প্রকারান্তরে দেশের ক্ষতিই ডাকব --তোমার এইসতর্কবাণী আমাদের কানে ঢোকে নি।তাই বিবেকানন্দ একটি নাম মাত্র।একটি জ্বলন্ত হোম শিখা।একটি স্ফুলিঙ্গ ।একথা আমাদের মনেই থাকে না।তাই আজ যখন হাজারো তৈরী করা সমস্যার ভারে এই দেশ বিশেষত যুবসমাজ বিপন্ন !তখন এই বিপ্পন্নতার বিপ্রতীপে বিশ্বস্ততার প্রতীকে তোমাকেই চাই ।
Post a Comment