প্রিয়মানুষ চুমু দিয়ে সারা শরীর ভরিয়ে দিচ্ছে ঐশীর। তার হাত ঐশীর খোলা চুলের মধ্যে দিয়ে চালিয়ে দিতে দিতে বললো,ঐশী সত্যি বলো এ জিনিসে আগে কারোর হাত পড়েনি।

 

Story and Article

অর্ধ-খদিত চাঁদ

Chatterjee Katha


আশ্বিন মাস প্রায় এসে গেছে, সামনেই দূর্গা পুজো। ধুলো-ধোয়া-কংক্রিটের মাঝখানে দিনদিন কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছিল ঐশী। রোজ রোজ বন্ধুদের সাথে হ্যাংআউট আর রনির সাথে 2 বছরের  লিভ-ইনের পর একটা ব্রেক নেওয়া উচিত বলে মন হয়েছে ওর। দূর্গা প্রতিমা তৈরী হয়ে গেছে, কলকাতার থিম পান্ডেলগুলোর উদ্বোধন হয়ে যাবে আর কিছু দিনের মধ্যে, এইবার পুজোয় বাড়ি যাবে ঐশী। তাও প্রায় সাড়ে তিন বছর পর...নিজের মাটিতে ফিরবে সে। গন্তব্য স্টেশনে ট্রেন এসে থামলো, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সাড়ে নটা বাজে। স্টেশন থেকে বাড়ি অবধি হাঁটা পথ। পথের দুধারে ঘন কাশফুলে ঢাকা, আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। বুক ভরে শ্বাস নিলো ঐশী,সেই মাটির গন্ধ সেই টান। রাস্তায় যেতে যেতে কত চেনা মুখের সাথে দেখা কেউ বা চিনতে পারে তো কেউ না চেনার ভান করেই চলে যায়। সামনের স্কুলমাঠে প্যান্ডেল হচ্ছে এখানেও পুজো হয়,মেলা বসে। মনে পরে বন্ধুদের সাথে মেলায় বেড়াতে আসত,নবমীর রাতে। ছোটবেলার স্মৃতিগুলো সব ভিড় করেছে মনের মধ্যে,চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন বাড়ির সামনে চলে এসেছে খেয়াল করেনি, বাড়িতে ঢুকেই দূর্গাদালানের কাছে এসে দেখল প্রতিমা তৈরী হয়ে গেছে। প্রায় 200 বছরের পুরোনো পুজো হয় ওদের বাড়িতে। এই পুজোর সময় যত যেখানে আত্মীয় আছে সবাই বাড়িতে আসে। পুজোর দিনগুলো খুব জমজমাট হয়ে থাকে বাড়িটা কিন্তু ও এই তিন বছরে একবারও আসেনি। মা অনেকবার ফোন করতো তাও আসেনি। ঠামমাম ওকে দেখতে পেয়ে আদর করে জড়িয়ে ধরলো। ঘরে নিয়ে গেল ওকে। বেশ অনেকদিন বাদে কেমন যেন সস্থি লাগচ্ছে ওর। ভাবতেও পারছেনা ওই রনির জন্য ওকে, এতগুলো বছর নিজের পরিবারের থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। বিধর্মী বলে,বাবা-মা রনিকে মেনে নেয়নি, (রেহান খান)। আর সেই জন্যেই অভিমান করে এত দিন আসেনি।
সেই আজ যখন বিট্রে করলো, তখন মন ভার করে চলে এলো বাড়ি... 
আজ মহালয়া...

             "অশ্বিনের শারদ প্রাতে/
                        বেজে ওঠে আলোক মঞ্জিরে"

এই দুই লাইনে ঘুম ভাঙলো, দক্ষিণের জানলা গুলো দিলো খুলে,শরতের প্রথম আলো ছড়িয়ে গেলো ঘরের চারিদিকে। ঐশীর ঘরে এলো মিঠু,বললো-কি রে, শুনেছিস? পলিপিসিরা আসছে কাল, সঙ্গে বনিদাও আসছে। 
কে বনি? ঐশী খানিক কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলো। 
আরে মনে নেই পলিপিসির জায়ের ছেলেটাকে?
দাড়া দেখাচ্ছি বলে ফেইসবুক খুলে অভিমন্যু নামের লোকেদের লিস্ট বার করলো তারই একজনের প্রোফাইল পিকে ক্লিক করতেই খুলে গেল ছবি। 
Metamorphosis, অসাধারণ! সেই হাবলু-গাবলু মোটা চশমা পড়া ছেলেটা যে এতটা বদলে যাবে ভাবা যায় না। তার কথা তো ভুলেই গেছিলো ঐশী মিঠু বললো বলে মনে পড়লো। এই ছবিটা ঐশীর ঘুম কেঁড়েছে,সকালে উঠেই ছাদে গিয়ে অপেক্ষা করছে সে আসবে বলে। পলিপিসিরা আসতেই ঐশীর চোখ বণিকে খুঁজছে অতীব আগ্রহে। হঠাৎ! বনি নিজে থেকেই ছাদের দিকে তাকায়... আর পারে না এবার তো মনে হয় মরেই যাবে ইস!একেবারে চোখে চোখ পরে গেছিলো। ভয়-লজ্জায় লাল হয়ে গেছিলো ঐশীর মুখ,ছুটে ঘরে চলে এলো। কি হয়েছে ঐশীর আজকাল কে জানে? স্মার্ট-ঠোঁটকাটা স্বভাবের মেয়েটা আজকাল নাকি কোনো ছেলেকে দেখে লজ্জা পাচ্ছে। ঘর থেকে বেরোবার সময় যদি একবার বনির সামনাসামনি পরে গেছে তো আর রক্ষে নেই,সোজা গিয়ে ঘরে লুকিয়ে পড়বে আর দরজার ফাঁক দিয়ে বণিকে দেখবে। 
 দুর্গাপুজোয় শুধু নয়,সরস্বতী পুজোতেও শাড়ী পরে না ঐশী। সেই ছোটবেলার অভ্যাস, কিন্তু এবারে একটা শাড়ী অনলাইনে অর্ডার করে ফেললো একেবারে সাদা ঢাকাই। পরশুদিন ঠিক হলো,সবাই মিলে মেলায় যাবে। মেলাতেই প্রথমবার Mr. প্রজাপতির সাথে কথা হলো ঐশীর। ভাবেনি কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধুত্ব হয়ে গেল দুজনের। প্রবল প্রেম পেতো ঐশীর,কিন্তু ও বুঝতে পারতো না যে তার মনের মানুষটাও একই ভাবে কি না? অষ্টমীর সকালবেলা, ঐশীর কেনা সাদা ঢাকাইটা কনট্রাস্টেড লাল স্লিভলেস ব্লাউজ দিয়ে পড়লো। সঙ্গে oxidized গয়না। যেমন ধরো দুল,কমরের চেইন পায়ে নুপুর আর হাতে বালা। মিঠু কে দিয়ে জুঁইয়ের মালা আনিয়েছিলো সেটা আলগা খোপায় বাধলো।সামনের একটা লকস বার হয়ে এসেছে। চোখের কাজল আর লাল লিপস্টিকে রহস্যময়ী। নিজের থেকে চোখই সরছিল না ওর। মণ্ডপে আসতেই ঐশী বুঝলো, ছেলেদের চোখ ওর ডিপ কাট পিঠে,আর কোমরে গিয়ে পড়েছে। পুজো মণ্ডপে অঞ্জলী শুরু হয়ে গেছে। হাত জোর করে অঞ্জলী দিতে গিয়ে দেখে পাশে বনিদা দাঁড়িয়ে আছে। যখন সবাই অঞ্জলিতে ব্যাস্ত, তখন হাত ধরে বনিদা ঐশীকে দালানের পিছনে নিয়ে গেল। ঐশীর মুখের উপরে এসে পড়েছে চুলটা, নিজের আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিলো সে। তারপর দু হাতে ঐশীর মুখটা ধরে বললো, অনেক সুন্দর লাগছে তোমায়। হয়তো আরো আগে বলা উচিত ছিল কিন্তু আমি তোকে বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু ভাবি ঐশী। আমি তোমায় ভালোবাসি। বনি, ঐশীর হাত ধরে বললো আমার সাথে চলো। দুজনে শিউলি ঢাকা পথ দিয়ে হাঁটতে লাগলো। সব কিছু স্বপ্নের মতো লাগছিলো। অষ্টমীর সন্ধেবেলাতেও দুজনের চোখের ইশারা দুজন দুজনকে প্রেমের কথা জানাচ্ছিল। নবমীর রাত পোহালেই বিষাদের শুরু। এইবার বাড়ি ফাঁকা হয়ে যাবে, সবাই যে যার কাজে ফিরে যাবে। বনিদাও চলে যাবে ঐশিও কলকাতায় ফিরে যাবে হয়তো আবার সব আগের মতো হয়ে যাবে। কষ্টে বুকটা ফেটে গেল ঐশীর। সে আর বিসর্জনে গেল না,ঠামমামও যায়না। সে তার ঘরে বসে আছে মুখ ভার করে। ঐশীর মনে হলো একবার ঠামমামের কাছ থেকে ঘুরে আসবে। কিন্তু যাওয়ার পথে দেখলো বনিদা ঘরে শুয়ে আছে, তবে কি বনি যায়নি? ও ঘরে ঢুকতেই দেখে, বনিদা ঘুমাচ্ছে। আহারে! বেশ কয়েকদিন রাত জাগতে হয়েছে, মণ্ডপে থাকার জন্য। তাই ঘুমিয়ে পড়েছে বোধ হয়। চাদর তা টেনে দিয়ে মাথায় হাতবুলিয়ে দিয়ে চলেই যাচ্ছিল, হঠাৎ পিছন থেকে বনি হাত টেনে ধরে। ঐশী তাকাতেই হেসে বললো পরশু তো চলেই যাবো কিছু দেবে না আমায়। ঐশী লজ্জা পায়। হাত ধরে টান দিতেই ঐশী বনির বুকের উপর গিয়ে পরে। ঐশীর বুকের ভেতর তোলপাড় হচ্ছে। এর আগে কি সে রনির সাথে শোয়ে নি? তাহলে এমন হচ্ছে কেন! ঐশীকে বিছানায় শুয়িয়ে দিয়ে নিজের ঐশীর পাশে শুয়ে ওর কপালে চুমু এঁকে দিলো। চোখ বুজিয়ে গেল ঐশীর। এ এক অদ্ভুত অনুভুতি? এর আগে কখনো হয়নি। কপালে চুমু দেয়ার পর সে নেমে এলো গালে, তারপর ঠোঁটে-গলায়-ঘাড়ে... ভালোবাসার ছোয়া লাগলো...রনির ছোয়া আর বনির ছোয়ার মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। ডানহাত দিয়ে ঐশীর পড়া জামার বোতামগুলো খুলতে লাগলো মুখে এক পরম হাসি। 1-2-3 সারা শরীরে যেন শিহরণ জেগেছে। প্রিয়মানুষ চুমু দিয়ে সারা শরীর ভরিয়ে দিচ্ছে ঐশীর। তার হাত ঐশীর খোলা চুলের মধ্যে দিয়ে চালিয়ে দিতে দিতে বললো,ঐশী সত্যি বলো এ জিনিসে আগে কারোর হাত পড়েনি। ঐশী ডেস্পারেটের মতো উত্তর দিলো-না। একে ওপরের কাছে তারা এখন উন্মুক্ত আকাশের মতো স্বচ্ছ। দুজনে মিশে গেল ঠিক যেমন সমুদ্র আকাশের সাথে মেলে। হঠাৎ! দরজায় করাঘাতের শব্দ হয়, এবং অজান্তে যে দরজা খুলে এসেছিল ঐশী তা খুলে পলিপিসি ঢুকে পরে এবং দুজনকে ওই অবস্থায় দেখে সবাইকে ডেকে আনে। ঘৃনায় ঐশীর মা মুখ ঘুরিয়ে নেয়,ঐশী ওর বাবার দিকে তাকালে সে মাথা নিচু করে। বাকিরা তাদের প্রেমটাকে কুৎসিত আকার দিয়ে ছিঃছিঃ করতে থাকে। পলিপিসিতো অজ্ঞানই হয়ে গেছেন। ঐশী সবার সাথে এক লড়াই করতে থাকে। কিন্তু আশ্চর্য, বনি একটাও কথা বলে না। শুধু ঐশীর বাবা, অনুরোধ করলো যদি ঐশীকে বনি বিয়ে করে তাহলে অন্তত ঐশীর সম্মানটা বাঁচবে। পলিপিসিতো বললো, কি বলছো দাদা তোমার ওই শতেক ছেলে চড়ানো মেয়ের সাথে আমাদের বনির বিয়ে দিতে চাও? বাবা বললো, এসব তুই কি বলছিস পলি। বাবা বারবার অনুরোধ করছিল, বনিদা এইবার মুখ খুললো, তবে ঐশীর পক্ষে নয়। বনি বললো-এ মেয়ের সাথে শুয়েই বুঝেছি অনেকে এর সাদ নিয়েছে, কি জানেন তো কাকু এইসব মেয়েদের সাথে শোয়া যায় বিয়ে করা যায় না। বাবার চোখে জল এলো। পিসি ও বাকি সবাইরা পরের ছেলের কথায় সায় দিয়ে নিজের বাড়ির মেয়েকে ছোট করলো। ঐশী কিছু বলতে যাবে, ওর বাবা ওকে থাপ্পড় মারলো, আর বললো এইটা যদি আগে মারতাম তাহলে এই দিন আর দেখতে হতো না। ঐশীর গায়ে কোনোদিন হাত তোলেনি সে যত বড় অন্যায় করুক না কেনো। 
আশা করি বনিরও মেয়ে হবে আর তখন যেন তাকে এইদিন দেখতে না হয়।
    

                               (সমাপ্ত)


পার্ট-২

ঐশীর জীবন এখন অনেক রঙিন, স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখের সংসার। সেইদিনের ভয়ঙ্কর রাতের পর, ঐশীর বাবা যখন তার বিয়ে ঠিক করলো তখন ঐশী না করতে পারিনি। সারা রাত কেঁদেছিল। তথাগত ওর স্বামীর নাম, স্বামী বললে ভুল হবে সে হচ্ছে ঐশীর বেস্ট ফ্রেন্ড.....সেই তাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে, বুক ভরে নিঃস্বাস নিতে সাহায্য করেছে। ঐশীর দুঃখ-কষ্ট সব যেন তার নিজের। ঐশীকে সে খুব ভালোবাসে। রেহান আর রোহান দুটি ছেলে ঐশীর। একজন থ্রিতে পরে আর একজন ওয়ানে।  এত ভালোবাসা যে ঐশী কোনোদিন পাবে ভাবেনি। বিয়ের পর আর কোনোদিন সে ও বাড়িতে যায়নি, কারণ সেখানে গেলেই তো আবার সেই কঠিনতম সত্যির মুখোমুখি হতে হবে। কিন্ত এবছর প্রথমবার সে পুজোয় ও বাড়িতে যাচ্ছে। এখন আর ট্রেন নয়, নিজস্ব গাড়ি আছে ঐশীর। আজ আবার সেই মহালয়ার দিন, গাড়িতেই চলছে মহালয়া পাঠ। সামনের সিটে রেহান-রোহান বসে। পিছনের সিটে ওরা দুজন। সেই কাশফুলে ঢাকা রাস্তার মধ্যে দিয়ে গাড়ি ছুটছে...তথাগত ঐশীকে কাছে টেনে কপালে চুমু খেলো,ঐশীর হালকা করে তথাগতর কাঁধে মাথা দিলো। বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থামলো। প্রথমবার জামাই এসেছে বলে, ঐশীর মা জামাইকে বরন  করলো। দূরে মিঠু দাঁড়িয়ে হাসছিল, বরণ হতেই এসে জড়িয়ে ধরলো ঐশীকে। মিঠুরও বিয়ে হয়ে গেছে। ওর মেয়ের নাম চিকু। বেশ কয়েকদিন ঠিক ছিল। তারপর এলো সেইদিন, কালো গাড়ি এসে থামলো মাইন গেটের কাছে, ঐশী ছাদে দাঁড়িয়ে যে অন্যায় করেছিল সে আজও বুকফুলিয়ে এই বাড়িতে আসে আর যার দোষ সে ভালোবেসেছিলো সে আজ নয় বছর বাড়ি আসে না। গাড়ি থেকে পলিপিসিতো,পিসিমসাই, চিনিদি, ঋজুদা নামলো, আর নামলো বনি। দরজা দিয়ে ঢুকেই ছাদে তাকালো। আবার সেই চোখের উপর চোখ পড়লো। তবে এবার লজ্জা নয় ঘৃণায় চোখ সরিয়ে নিলো ঐশী। দুপুরবেলা সেই আগেকয়দিনের মতো মেঝেতে সতরঞ্চি পেতে খেতে বসা হয়েছে। 


পিকলুদা, মিঠু, সাহিত্য দা, চিনি দি, ঋজু দা, সোহম, অরুন, ঋষি, তথাগত, ঠামমাম, পলিপিসি, পিসিমসাই, কাকী, জেঠুন, জেমি সবাই। বনিদাও বসেছে। খেতে খেতে লক্ষ্য করেছি, বনিদা আমার দিকে তাকাচ্ছিল। হয়তো এটা ভেবে ও একজনকে এইভাবে অসম্মানিত করার পর সে কিভাবে এতটা ভালো থাকতে পারে। তখন সূর্য প্রায় ডুবে এসেছে ছাদের উপর দাঁড়িয়ে গুনগুন করে গান ধরেছে ঐশী, পাশে তথাগতও দাঁড়িয়ে। বনিদা দেখি ছাদে এলো, অপরদিকের অংশটায় দাঁড়িয়ে সিগারেটটা বার করে একটা জোরে টান দিলো। যেন মনে জমে থাকা কালো মেঘের কিছুটা হালকা হলো। ঐশী বনি কে দেখে বরের কাছে আর একটু সরে গেলো, কাছে যেতেই তথাগত ওর চুলটা মুখের উপর দিয়ে সরিয়ে নাকে নাক ঘষে দিলো। আদূরে ঐশীর মুখ লাল হয়ে এলো। সত্যি তো একটা অমানুষ ওকে যে খারাপ অবস্থায় ফেলে গেছিলো তা থেকে উন্মুক্ত করেছে তথাগত। ওদের মাখামাখি দেখে বনি দা সিগেরেটটা মেঝেতে ফেলে চলে গেলো। আজ আলতা পড়েছে ঐশী পাদুটো দেখার মতো বটে। স্নান করে উঠে চুলের জলটা মুছতে মুছতে ডাক দিলো পুচ.....উ..... উ... উ - বাবান.....ন..... ন.....ন এসো খাবারটা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে খেয়ে নাও।বলে চুল মুছতে ব্যস্ত হয়ে পরে আবার। পিছন থেকে জড়িয়ে ধরায়ে চমকে ওঠে ঐশী, আঃ তথা ছাড়ো দরজা খোলা কেউ এসে পড়লে? এই অবধি বলেই যেই পিছনে ফিরেছে দেখে বনিদা। প্রথমটায় থতমত খেয়ে গেলেও পরে রাগের বসে কষিয়ে এক থাপ্পড় মারে ওর গালে। লজ্জা করে না বেয়াদপ আমায় তুমি সস্তা পেয়েছো যখন খুশি ব্যবহার করবে আবার ফেলে দেবে? হ্যাঁ?তথাগতর সাথে আমি অনেক ভালো আছি শয়তান। তুমি যে এত পাপ করার পর মরে যাওনি এটাই দুশ্চিন্তার। এসেছো না আমার সুখের সংসারে আগুন ধরাতে? হুম! বনিদা চলে গেলো। তথা ঘরে এলো সঙ্গে ছেলেরাও। তথা বললো কি গ তোমায় এমন লাগছে কেন? রেহান আর রোহান কে মায়ের ঘরে পাঠিয়ে দিলো। ওরা চলে যেতেই ঐশী দরজা বন্ধ করে দিলো ঘরের। ছুটে এসে জড়িয়ে ধরলো তথাগতকে গায়ে এক অদ্ভুত সুন্দর গন্ধ ওর, তথা ওর মাথায় চুমু খেলো এইরকম করলে ঐশী তাড়াতাড়ি শান্ত হয়ে যায় কিন্তু আজ আর হলো না, কেঁদে ফেললো...বরের থুতনিতে নাক ঠেকিয়ে কান্না জড়ানো আদুরে গলায় বললো- আদর করো আমায়। আমার আদর পেয়েছে। এইপ্রথম ও কিছু চাইলো বরের কাছে ?এতো দিন তো না চাইতেই পেতো। যাই হোক বউ এর এই আবদারটাও তথা ফেলবে না। ঐশীকে আদরে ভরিয়ে দিলো। এত আদর করলো যে সেটা ওর কল্পনার বাইরে। রাতেরবেলা মিঠু ডাকতে এসেছিল খাবার জন্য কিন্তু ওরা যাইনি। মিঠু মনে মনে হাসলো। সবাই যখন জিজ্ঞাসা করলো কি রে?ওরা এলো না কেন? মিঠু বললো দিদির শরীরখারাপ, আর ওর বর তাই সেবা করছে,বলেই হেসে ফেললো। পলিপিসি বললো-শরীরখারাপ না ছাই, ওসব আদিখ্যেতা ছি: তোমার মেয়েতো বরাবরই অসভ্য , এই বাড়ি ভর্তি লোক পিসি-কাকী জ্ঞান করে না বরের সাথে শুয়ে পরে আছে। নোংরামো যতসব। ঐশীর মা বললো, কেন বলতো পলি? এতে নোংরামির কি দেখলে, তোমার ছেলেমেয়েগুলো কি হাওয়ায় হয়েছে। আর তাছাড়া ও তো আর অন্যকারোর সাথে শুয়ে নেই আছে তো বরের  সাথেই। আর মনে নেই যে বছর তোমার প্রথম বিয়ে হয়েছিল ওইতো আমি আর নীরা তোমায় ডাকতে গিয়ে দেখি দোর এঁটে শুয়ে আছো। ডাকতেই বললে শরীরখারাপ। কিরে নীরা বল? নীরা হেসে গড়িয়ে পড়লো সে কথা শুনে। পলিপিসি চুপ করে গেলো

পরেরদিন মিঠু ঐশীর ঘরে এলো, কিরে কেমন আছিস? শরীর ভালো তো? 

কেন বলতো?    না আসলে....কাল খেতে গেলি না,তাই আর কি। চুপ! কি যে বলিস না সামনে, বাচ্চারা রয়েছে। মিঠু খুব হাসলো, এবং বললো কি রে তোর বনির সাথে কথা হয়েছে? ঐশী রেগে গিয়ে বললো চুপ কর, খবরদার ওর নাম নিবিনা আমার সামনে......

তুই তো জানিসই না এই কবছরে কি হয়েছিল? তোর বিয়ে হয়ে চলে যাওয়ার পর আমি পড়তে কলকাতায় যাবো বলে ঠিক করলাম, মাস্টার্স তা শেষ করবো যখন ভাবছি পলিপিসি, আমার মাকে বললো যাতে আমার সাথে বনির বিয়ে দিয়ে দিতে, মা জিজ্ঞাসা করেছিল, কেনো বিদেশের মেম পায়নি এই পোড়া গ্রামে ছেলের বিয়ে দিচ্ছে, পলিপিসি কিছু যেন একটা লোকাচ্ছিলো বলে মনে হলো। যাইহোক ঠামমামের বারণের সত্ত্বেও আমার সাথে বনির বিয়ে ঠিক হয়ে গেলো। 

ঠামমাম বলেছিল, তোমাদের কি মনে হয় মোমের(ঐশী) একা দোষ ছিল ওইদিন...ওই হতচ্ছাড়াটার কোনো দোষ নেই? ওর যদি বিয়েতে ইচ্ছাই না ছিল মোমের সাথে ঢং করে শুলো কেন। এক নাতনির জীবন শেষ করে এই পলিটা আরেক নাতনির মাথা কাছে ডাইনি কোথাকার!!
পলি চুপ করে রইলো। 
যাইহোক বাবা বনির সাথে বিয়েতে রাজি হয় শুধু আমি বিদেশ যাবো বলে... তারপর আমরা বিদেশে উড়ে গেলাম ...বেশ কয়েক বছর একসাথে থাকার পর, তখন চিকুর বয়স 3 বছর, আমি জানতে পারলাম যে এক মারণ রোগে আক্রান্ত তাও...আমি ওর পাশে থাকলাম। কিন্তু খুব রাগ হচ্ছিল যে পলিপিসি এমনটা কেনো করলো আমার সাথে? তারপর একদিন, বনি ড্রিংক করে এসে আমার উপর অত্যাচার করতে লাগলো একদিন অসহ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে চিকু কে নিয়ে চলে আসি। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়লো মিঠু। 

ঐশী চুপ করে রইলো, তথাগত বললো আমি কি একটু কথা বলবো ওর সাথে? কিন্তু ঐশী ওকে থামিয়ে দিলো এবং মিঠুকে বললো তুই আবার কলকাতায় যা মাস্টার্স কমপ্লিট কর ততদিন চিকু আর তুই আমার সাথে থাকবি....

এইভাবে সব নতুন ভাবে শুরু হলো অকাল বোধনের মতো।।