ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও হাত ছাড়া করলো। বাবার উচ্চ মাধ্যমিকই নাকি তাঁর ঢের পছন্দ।ছেলেটার যে, বয়স ধরেছে তা একদমই বুঝতে চায়না।
" বাদল বরিষণে"
রচনা - মু. শফিকুল ইসলাম
পৃষ্টা নং (০২)
- কেন কি হয়েছে? বল,শুনছি?
- তুমি খাবেনা?
- তোরা খেয়ে নে, আমি একটু পরে খেয়ে নেব।
নুরজাহান খানম দরজার আড়াল থেকে ধীর মনষ্ক হয়ে, মৃদু চোখের চাহনিতে খাবারের টেবিলে দৃষ্টি গোচর করলেন। মা নুর জাহান খানমের মনে ভাবনা অনেক নীড় বেঁধেছে। ছেলের বয়স ত্রিশের কোঠা ছাড়িয়ে পয়ত্রিশ ছাড়ো ছাড়ো। বড় ছেলে সরফরাজ বিয়ে সাদি করে ঘরমুখো হয়েছে। যুগ পেরিয়ে বড় ছেলে পনেরো ধরো ধরো।দুটো ফুটফুটে সন্তান তাঁর ঘর আলোকিত করে রেখেছে।
বড় ছেলেকে নিয়ে আমার আর তেমন ভাবনাই নেই।আর মেয়ে সাদিয়া বিনতে জহুরা বেশ অঢেল মাঝে বসবাস।জামাই কারখানার ব্যবসা নিয়ে বড়ো ব্যস্ত।বড় ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঙলা বিভাগের প্রভাষক। আর ছোটো বাদর ছেলেটা বড়োই গেঁয়ো, তাঁর নাকি পৈতৃক ভিটা ঢের ভাল। কলকাতা বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বড়ো ডিক্রি অর্জন করালাম গেঁয়ো সেজে থাকার জন্য? এতো করে বললুম শুনলোই না। এতো ভাল পরীক্ষার ফলাফল ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও হাত ছাড়া করলো। বাবার উচ্চ মাধ্যমিকই নাকি তাঁর ঢের পছন্দ।ছেলেটার যে, বয়স ধরেছে তা একদমই বুঝতে চায়না। এতো করে বলছি শুনছেইনা। বাদরটাকে বিয়ে দেয়ার জন্য আমি যে,উতলা হয়ে আছি। তুই কেন বুঝতে পারিস না? আমার বয়স ধরেছে তোর বাবা পরপারে পাড়ি জমিয়েছন বছর পাঁচেক হলো। আমারও শরীরটা ভাল যাচ্ছে না। সোনা বাপ আমার এবার বিয়েটা কর্ না বাপ ধন আমার। মন্দ মেয়ে তো ঘরে আনি নি। মেয়েটাও কেমন যেন লজ্জুক!আমি মা হয়ে সব কি বলে দিতে পারি?নার্গীস তোকে আমি কেন এনেছি জানিস? তোকে আমি আমার ছেলের বউ করবো বলে। আমার ছেলেটাকে গুছিয়ে নে মা।
আমার ছেলে সাখাওয়াত বড়ো ভাল ছেলে। ও এমন গম্ভীর একদমই ছিলে না। বেশ চঞ্চল অকপটে ছেলে ছিলো। কোলকাতা পড়াশোনা করার মাঝামাঝি ছেলেটা কেমন যেন আধ্যাত্বিক হয়ে যেতে লাগলো। পড়াশোনা শেষ পর্যায়ে বুঝতে পারলুম সে যেন এক ভীন গ্রহের। আমার স্বপ্ন ছিলো ছোট ছেলেকে নিয়ে, তাতে বড়ো ধুমধামে বিয়ে দেব আশার মুখে পুরোটাই যেন ছাই।বয়স যে, হয়ছে বুঝতেই চায়না, অবুঝের আচরণ একদম যায়নি। স্বপ্ন বুনেছি তোকে নিয়ে, হাত ছাড়া হোস না একদম।কথা গুলো মা নুরজাহান খানম মনে মনে ভাবছেন, আর গাল বেয়ে টলমল জল গড়িয়ে পড়ছে। সাখাওয়াত এবং নার্গীস খাবার টেবিলে বেশ কথায় মজেছে। মা নুরজাহান খানম আচ করতে পেরে, ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নিলেন দরজার দার থেকে।
চলবে...
Post a Comment