সুন্দরী বলা যেতে পারে । পথ হাঁটার ক্লান্তি যার শরীরকে স্পর্শ করতে পারেনি । হেল্প করতে পারেনা আবার জ্ঞান দিতে এসেছে

 

‍Story and Article

এক অরিন্দমের কথা

কলমে রথীন্দ্রনাথ রায়


অরিন্দম আর মহুয়ার মধ্যে দেখা হওয়ার কথা ছিলনা । তবু হয়েছিল । আর এখান থেকেই শুরু আমার গল্প ।

-- শুনুন । 
পিছনে চেয়ে দেখে কেউ কোথাও নেই । আশ্চর্য হল অরিন্দম । কোথা থেকে এল ওই কণ্ঠ । 
ততক্ষণে মেয়েটি সামনে এসে দাড়িঁয়েছে ।
-- প্লীজ, আমাকে একটু হেল্প করুননা  ?
-- হেল্প ! 
-- হ্যাঁ, আমার স্কুটারটা বিগড়েছে । যদি ওটাকে  -- 
-- দেখুন, আমি তো স্কুটারের কাজ জানিনা । 
-- তাহলে উপায়  ?
মেয়েটি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে । 

অরিন্দম ওর দিকে একঝলক দৃষ্টি নিক্ষেপ করল অরিন্দম । সুন্দরী বলা যেতে পারে । পথ হাঁটার ক্লান্তি যার শরীরকে স্পর্শ করতে পারেনি । আজ হঠাৎ স্কুটারটা খারাপ হওয়ায় তার মুখের অবস্থা সহজেই অনুমেয় । 
-- একদিন হেঁটেই দেখুননা ভালো লাগতে পারে । কিঞ্চিত মেদও ঝরতে পারে । 
মহুয়া বিরক্তি সহকারে মুখটা ফিরিয়ে নেয় । 

রাবিশ  ! হেল্প করতে পারেনা আবার জ্ঞান দিতে এসেছে  । স্কুটারটার কাছে এসে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে । 

অরিন্দম চলতে থাকে । বেলা খুব একটা হয়নি । কিন্তু এরই মধ্যে রোদের তেজ যেন বেশ বেড়ে উঠেছে । কে বলবে বর্ষা সবেমাত্র শেষ হয়ে শরৎ এসেছে । যদিও বর্ষা এবার খুব একটা ভালো হয়নি । তাই শরৎ শেষ হলেও গ্রীষ্ম তার থাবাটাকে আর একটু বড় করে নিয়েছে । ঠিক এই সময়েই মহিলার বাহনটা বিগড়োল ! বড্ড বেরসিক ওই স্কুটারটা । অমন ননীর পুতুলের মতো গড়ন যার  -- তাকেও কিনা এই রোদের মধ্যে গাড়িটাকে ঠেলতে  হবে  ? 
বাঁকটার মুখেই মডার্ন অটো রিপেয়ারিং সপ ।
-- এই পল্টু ? 
-- আরে অরিন্দমদা, কোত্থেকে  ? 

কালিমাখা হাতটা মুছতে মুছতে সামনে আসে পল্টু । অরিন্দম বলে, হাতে কোনও কাজ আছে  ? 
-- না । তবে তোমার দরকার থাকে তো বলো । 
-- মিলন মন্দিরের কাছে একটা স্কুটার বিগড়েছে । সেরে দিয়ে আয় । 
-- ঠিক আছে । এই মন্টে এদিকটা দেখিস । 


তারপর প্রয়োজনীয় কয়েকটা যন্ত্রপাতি নিয়ে রওনা দেয় পল্টু । সাধারণত এধরণের কাজে ও খুব একটা যায়না । কিন্তু অরিন্দমের কথা ঠেলে দিতে পারেনা । আসলে অরিন্দমই ওর জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট । বেশ বড় একটা সংসারের বোঝা মাথায় নিয়ে তিলে তিলে শেষ হয়ে যেতে বসেছিল সে । তখন সবেমাত্র কোভিড লকডাউন শুরু হয়েছে । দৈনিক দুশো টাকা বেতনে কাজ করত অম্বিকা অটোসার্ভিসে । কিন্তু দুশো টাকায় কিছুতেই পাঁচজনের সংসারে ঠিকমতো গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা হতোনা । কোনওরকমে দিনগুজরান হতো । লকডাউন উঠল । কিন্তু কাজ কোথায়  ? অম্বিকাদা বলল  , হাফপেমেণ্ট নিলে ব্যবস্থা হতে পারে । দৈনিক একশোটা টাকায় পাঁচজনের যে নুনভাতের ব্যবস্থাও হতে পারেনা । বড়দি রমার সঙ্গে পাড়ার মাখনদার সম্পর্ক ছিল । কিন্তু মাখনদা অভাবের সুযোগ নিয়েছিল । আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল দিদি । পারেনি । পল্টু তাকে বাধা দিয়েছিল । 
সেদিন অরিন্দমের কাছে খুব কেঁদেছিল পল্টু । 

অরিন্দম বলেছিল, পাগল উঠে দাঁড়া । ম্যায় হুঁ না । সব ঠিক হয়ে যাবে । 
তারপর কয়েকদিনের মধ্যেই মোড়ের মাথায় ঘরটা পেল । একমাসের মধ্যেই ধীরে ধীরে উন্নতি । এরপর আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি । তাই অরিন্দম তার কাছে দেবতার মতো । 

মহুয়া একমনে স্কুটারটার পিছনে লেগেছিল । কিন্তু কিছুতেই তার ডিফেক্টটা খুঁজে পাচ্ছিলনা । ক'দিন আগেই সার্ভিসিং করা হয়েছে । আর আজ পথের মাঝে বিকল  ! 
-- এই যে দিদি চলুন । আমি ঠিক করে দিচ্ছি । 
আশ্চর্য হল মহুয়া । বেশ কিছুক্ষণ চেয়ে রইল ওর দিকে । 

-- অবাক হওয়ার কিছু নেই । অরিন্দমদা আমাকে পাঠালেন । নাহলে বাইরের কাজে আমি খুব একটা আসিনা । 
-- না মানে-- আমি তো ?

-- ঠিক আছে । চলুন ডিফেক্ট এমন কিছু নয় । অয়েল পাইপে কিছু একটা আটকে যাওয়ায় বিগড়ে গেছিল । যাই হোক কিছুক্ষণের মধ্যেই সেরে ফেলল পল্টু । তারপর একটা চক্কর দিয়ে এসে বলল  , এবারে দেখুন পক্ষীরাজ আর পথের মাঝে বিগড়ে আপনাকে কষ্ট দেবেনা । 
মহুয়া ওর পার্স থেকে একশো টাকার একটা নোট বের করতেই পল্টু বলে ওঠে  , মাফ করবেন  , আমি অরিন্দমদার খাতিরে-- 
-- কিন্তু আমি তোমার অরিন্দমদার খাতির নেব কেন  ?;
-- সেটা আপনারা বুঝবেন । 
পা বাড়ায় পল্টু । 
-।  ভাইটি তুমি কিন্তু ভুল করছ  ? 

ততক্ষণে পল্টু বেশ কিছুটা দূরে চলে গেছে । সেখান থেকেই বলল  , তা হবে  । তবে দোকানে বেশ কয়েকটা গাড়ি পড়ে আছে । সারাতে হবে । আর দেরি করতে পারছিনা । 
ওর চলে যাওয়ার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে থাকে মহুয়া । তার কাছে সবটাই আশ্চর্য বলে মনে হয় । কে ওই অরিন্দম  ? তার প্রতি হঠাৎ মহানুভব হয়ে পড়ল কেন  ? ধান্দাবাজ নয়তো  ? মহানুভবতা দেখিয়ে মেয়েদের কাছে আসার চেষ্টা । পুরুষ জাতটার ওই একটা দোষ  ? তারপর সে মেয়ে যদি সুবেশা এবং সুন্দরী হয়  -- তাহলে তো কথাই নেই । 

বেশ কয়েকদিন পরের কথা । কলেজের স্টাফরুম থেকে বেরিয়ে আসছে দেখে সেই মহানুভব  ! 
-- আপনি  ? 
-- চিনতে পেরেছেন তাহলে । 
-- হ্যাঁ । কিন্তু আপনি এখানে  ? 

-- আসলে হয়েছে কি পাড়ার এক ভাই পরীক্ষার ফি'স দিতে পারবেনা বলেছিল । ওর ফি'সটা দিয়ে ওকে একটু সাহায্য করলাম। না না দয়া নয় । ও পরে দিয়ে দেবে ।

-- কে বলুন তো  ? 
-- আপনি কি চিনবেন  ? রহমৎউল্লা -- 
-- হ্যাঁ । ওকে চিনবনা, কি যে বলেন! বাংলা অনার্সের ছাত্র । তবে বড্ড মুখচোরা এবং লাজুক । 
-- তা হবে হয়তো । আচ্ছা আজ আসি । 

চলে যায় অরিন্দম । আশ্চর্য হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মহুয়া ।অরিন্দম কি সত্যিই পরোপকারী  ? না, এটা তার ভণ্ডামি । কিন্তু রহমৎউল্লা তো মেয়ে নয় । তবে  !


যাই হোক আরও কয়েকদিন পরের কথা । হঠাৎ একদিন বাস্তুহারাদের মিছিলে অরিন্দমকে দেখে অবাক হয়ে যায় মহুয়া । এখানেও এই মিছিলে অরিন্দম  ? এবারে মণ্ত্রীমণ্ত্রী হবার জন্য না স্রেফ বাস্তুহারাদের এক টুকরো বাসজমি পাইয়ে দেওয়ার জন্য  ? মিছিলটা চলে যেতেই মহুয়া স্কুটারে উঠে বসে । গাড়ি চলতে থাকে । কিন্তু ভাবনাটা চলে যায়না । আজকাল ওই মহানুভবটিকে নিয়ে বড্ড বেশিই ভাবছে সে । তারপর একদিন রহমৎউল্লাকে একটা ওষুধের দোকানে দেখে আশ্চর্য হয় । রহমৎ যদিও ওকে না দেখার মতো করে দাঁড়িয়েছিল ।কিন্তু মহুয়া এগিয়ে এসে বলে, কি রহমৎ কার জন্য ওষুধ নিচ্ছ  ? 

-- ওই তো অরিন্দমদার জন্য । ক'দিন হল জ্বরে পড়েছেন । মাসিমাই আসছিলেন । পথে আমার সঙ্গে দেখা । তাই  -- আজ আসি ম্যাম । 

রহমৎ চলে গেলে কি যেন ভাবতে থাকে মহুয়া । 

তাহলে সে যেভাবে সন্দেহ করে আসছিল অরিন্দম ঠিক সেরকম নয় । সেদিন বিকেলের দিকে পল্টুর কাছে ঠিকানা নিয়ে অরিন্দমের বাড়িতে হাজির হল মহুয়া । ওর মা দরজা খুলে আশ্চর্য হয়ে বলল, তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না । 

কি বলবে ঠিক করতে পারেনা মহুয়া । কি বলবে  ? মিথ্যে  ? তাছাড়া এমন কিছু পরিচয় তো গড়ে ওঠেনি যাতে করে  -- তারপর কিছু একটা ভেবে নিয়ে বললে, আসলে অরিন্দমদা দিদির বন্ধু কিনা; তাই । 

-- এসো । ক'দিন হল ছেলেটা জ্বর বাধিয়ে বসেছে । যে হারে সমাজ উদ্ধার করে বেড়াচ্ছে, তাতে জ্বরের আর দোষ কি  ? 

তারপর ভেতরের ঘরে নিয়ে এসে বললেন, ওরে অরিন্দম, দেখ কে এসেছে ।স
অরিন্দম আধশোওয়া অবস্থায় ম্যাগাজিন পড়ছিল । মুখটা তুলে মহুয়াকে দেখে আশ্চর্য হয় । 
-- তোমরা কথা বলো । আমি আসি । 

মহুয়া অরিন্দমের কাছে এসে বললে, কেমন আছেন  ? 
-- ভালো । কিন্তুআপনি একেবারে আমাদের বাড়িতে  ?:
-- কেন আসতে নেই  ? 
-- না মানে, দাঁড়িয়ে রইলে যে? বসো । 

মহুয়া বসতেই মা কিছুটা গরম দুধ নিয়ে এসে বললেন, অরিন্দম এটা খেয়ে নে । 
অরিন্দম ওঠার চেষ্টা করতেই মহুয়া বললে, থাক উঠতে হবেনা । 
তারপর ওর মায়ের দিকে ফিরে বললে, মাসিমা আমাকে দেন । আমি খাইয়ে দিচ্ছি । 
মা দুধটা মহুয়ার হাতে দিয়ে চলে যান । 
-- খেয়ে নিন । 

-- আপনি  ? 
-- হ্যাঁ আমি । আমার হাত থেকে খাওয়া যায়না বুঝি  ? 
অরিন্দম মহুয়ার চোখদুটোর দিকে চেয়ে থাকে । -- কি দেখছেন  ? 
-- জানিনা । 

# শেষ হইয়াও হইলনা শেষ । শেষ হতে পারত । 

কিন্তু সেদিন ফেরার সময়ে মাসিমার পা ছুঁয়ে প্রনাম করল মহুয়া । যে এর আগে বাবা মা ছাড়া আর কারোর পা ছুঁয়ে প্রনাম করেনি । আসার সময় প্রতিশ্রুতি দিল আবার আসবে । বাড়ি ফিরে আসার পর বেশ খুশি খুশি লাগছিল ওকে । রান্নাঘরে গেল মাকে সাহায্য করতে । মা বুঝতে পারলেন কিছু একটা পরিবর্তন ঘটেছে । কিন্তু মেয়ে এমন চাপা স্বভাবের যে কিচ্ছু বলতে চায়না । রাতে খাওয়ার টেবিলে ভাইকে বকল না পর্যন্ত । কিন্তু অভিন্নহৃদয় বন্ধু রঞ্জনা ফোন করলে তাকে বলেই ফেলল যে সে এক উড়নচন্ডীর দেখা পেয়েছে । চন্ডীটা মায়ের অন্ন ধ্বংস করছে । রোজগারের ধান্ধা নেই । 

সব শুনে রঞ্জনা বলল, তোর তো রোজগার আছে । তাহলে তাকে রোজগার করতে হবে কেন  ? 

না ওকে সরাসরি জবাব দিতে পারলনা । কিন্তু দ্বন্দ্ব একটা থেকেই গেল ।সারারাত ঘুমাতে পারলনা । পরদিন কলেজে এসে প্রিন্সিপালের ঘরে আবার সেই বাউন্ডুলের সঙ্গে দেখা । মহুয়া আশ্চর্য হয়ে বলল, আপনি  ? আপনি না অসুস্থ  ? এই অবস্থায় বাইরে না বেরোলেই কি নয়  ?
-- না মানে  ।

প্রিন্সিপাল বললেন  , আপনি অসুস্থ  ? আগে বলবেন তো  ? আর মহুয়া,  তুমি চেনো এনাকে  ? খুব ভালো মানুষ ইনি । রাজনীতির যাঁতাকলে পড়ে আমার চাকরিটাই হচ্ছিলনা । তখন ইনি আমাকে সাংসদ সৌগত মুখার্জির সঙ্গে দেখা করিয়ে দিয়েছিলেন । তবেই  -- 
-- না স্যার, এভাবে বলবেন না । আজ তাহলে আসি । আর শতবার্ষিকী উৎসবে যে কোনও সাহায্যের প্রয়োজন হলে আমাকে বলবেন । 

চলে যায় অরিন্দম । কিন্তু লাউঞ্জে গিয়ে কার জন্য যেন অপেক্ষা করতে লাগল । মহুয়া তো তার কেউ না । তবে কেন বকল সে  ? মহুয়া ভুল করছে না তো  ? বনের মোষ তাড়ানো একজনের ব্যাপারে বেশি ভাবছে না তো  ? ওর সঙ্গে আর দেখাই করবেনা । কিন্তু চলে যেতে গিয়েও পারলনা সে । মহুয়া পিছন থেকে বলল, এক্সকিউজ মি । আই অ্যাম স্যরি । 
-- কেন  ? 

-- না মানে, ওভাবে আমার বলা উচিত হয়নি ।স
-- এই ব্যাপার  ? ও আমি কিছু মনেই করিনি । আসি । 
চলে যায় অরিন্দম । একবার পিছনে তাকালে দেখতে পেত মহুয়ার চোখদুটো ভিজে এসেছে । 

এর মধ্যে বেশ কয়েকদিন কেটে গেছে । মা একদিন খেতে বসে অরিন্দমকে বললে, মহুয়ার দিদি নাকি তোর বন্ধু । তা তোর বন্ধুর মোবাইল নাম্বারটা দিসতো । 
ইতিমধ্যে বেশ কিছুটা সেরে উঠেছে অরিন্দম ।আগের মতোই সমাজ উদ্ধার চলতে লাগল । হঠাৎ একদিন বাজারের মধ্যে মহুয়ার সঙ্গে দেখা । অরিন্দম ওকে বলল  , আপনি বলেছেন আপনার দিদি নাকি আমার বন্ধু । তা আপনার দিদির মোবাইল নাম্বারটা আমার মা চেয়েছেন । 

সব মনে পড়ে গেল মহুয়ার । মনে মনে হাসল সে । বলল, দিচ্ছি । কিন্তু আপনি ফোন করবেন না যেন । 
-- কেন  ? 
-- দিদির বারণ আছে । 

নাম্বারটা নিল অরিন্দম । মায়ের ইচ্ছেটা কি তাও সে জানে । কোথায় মহুয়া আর কোথায় সে ? ও কলেজে পড়ায় আর সে বনের মোষ তাড়ায় । মায়ের এটা একটা অসম্ভব স্বপ্ন । মহুয়াকে বলবে, সে যেন মায়ের কথায় রাজি না হয় । কিন্তু বিধির লিখন বোধহয় অন্য কিছু ছিল । কয়েকদিন পরে রহমৎ সেই খবরটা দিল । মহুয়া ম্যামের স্কুটারে একটা ছোট হাতি  ( গাড়ি  ) ধাক্কা দিয়ে পালিয়েছে । অনেকদূরে ছিটকে পড়েছেন ম্যাম । অনেক রক্তপাত হয়েছে । হয়তো মহুয়া ম্যাম  ? 

হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিল অরিন্দম । ওর সাকরেদরাও ছুটে গিয়েছিল । যত রক্ত লাগে দেবে ওরা । কিন্তু ডাক্তার বললেন  , বাহাত্তর ঘন্টা না গেলে কিছু বলা যাবেনা । 

আত্মীয়রা পালা করে অপারেশন থিয়েটারের সামনে থাকছিল । কিন্তু অরিন্দম কোথাও যেতে পারছিলনা । যদি কোনও প্রয়োজন হয় । চতুর্থদিন জ্ঞান ফিরল মহুয়ার । কেবিনের মধ্যে অরিন্দমের ডান হাতটা বুকে চেপে ধরে মহুয়া বললে  , আমাকে ভু লে যা বে ন না । 
আর কিছু বলতে পারলনা সে । শুধু ক'ফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ল ওর দুগাল বেয়ে ।
অরিন্দম উদ্গত কান্নাকে কোনও রকমে সামলে নিয়ে বললে  , ম্যায় হুঁ না । 

কিন্তু সেদিন রাত্রেই সবাই সেই খারাপ খবরটা পেল । মহুয়া স্যান্যাল আর নেই । কাঁদল অনেকেই । কিন্তু মুখ লুকিয়ে কাঁদল একজনই । সে অরিন্দম ।


  (  শেষ  )