তবু মনে রেখো/যদি জল আসে আঁখিপাতে, এক দিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে, তবু মনে রেখো।"
আষাঢ়ে মেঘ
পর্ব-১
কথা চ্যাটার্জ্জী
ভালোবাসা পাওয়ার জন্য যতটা বড় হওয়া দরকার তা চিনি হয়নি, তাই শুভ হয়তো তাকে বড্ডো অবহেলা করে।
অমলের মনে যে শুধু সাঁঝির বাস তা চিনি খুব ভালো করেই জানে....তবু জানি না কোন ছেলেমানুষির বসে, চিনি রোজ কাঁচাআমের আচার টা বড়োমাদের ছাদ থেকে চুরি করার পর, আগে শুভর জন্যই নিয়ে আসে?
ছাদ লাগোয়া সিঁড়ি বেয়ে এক দৌড়ে শুভর ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালো চিনি; সাদা পর্দার আড়াল থেকে প্রতিদিন সে শুভর কথা শোনে...কিন্তু সাহস করে ঢুকতে পারে না ঘরে,কারণ শুভ বড় বড় চোখ করে আগেই বলে দিয়েছিল---"চিনি তুমি আর যেখানেই যাও, আমায় না জিজ্ঞাসা করে আমার ঘরে ঢুকবে না"-বুঝেছ?
চিনি কিন্তু শুভকে খুব ভয় পায় আবার ভালোওবাসে। প্রতিদিনকার মতো আজও শুভ তার সোহাগী সাঁঝির কোলে মাথা রেখে....রবি ঠাকুরের কবিতা পড়ছে। ১৩ বছরের নিষ্পাপ চিনি সেই কবিতাগুলোর এক পঙ্ক্তিও বুঝতে পারেনা, কিন্তু শুভর মুখে বলা কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তি ছন্দ-তাল, চিনির কানের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করে হৃদয়ের স্পন্দনকে ভরা জোয়ারের সময়কার সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উত্তাল করে তোলে।
সদ্য কিশোরী চিনির মনে আষাঢ়ে মেঘ জমে আর ঠোটেঁর কোনে না বোঝা অবুঝ ভালোবাসার হাসি। বৈশাখের পড়ন্ত বিকেলে সেই অবুঝ ভালোবাসার চঞ্চলতায় ছোট্ট চিনির হাত থেকে প্রিয়-গম্ভীর-রাগি মানুষটার জন্য আনা আমের আচারটা ভুল বসত মেঝেতে পরে যায়, শুভর বকা খাওয়ার ভয় সে ছুট্টে ছাদে চলে আসে.....
পর্ব-২
চিনি! .......চিনি! এই যে তুমি এখানে? বলি কবে আক্কেল হবে হ্যাঁ?তোমাকে কতবার বলেছি না আমার ঘরের দিকে যাবে না? তাহলে আজ ফের কেন গেছিলে?
বড্ডো পাকা মেয়ে হয়েছ তুমি....কোনো কাজ নেই, তাই আড়াল থেকে বড়দের কথা শোনা.... যাও দেওয়ালের দিকে মুখ করে কান ধরে দাড়াও। একবিন্দুও হেলতে যেন না দেখি।
এই বলে শুভ নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। আর চঞ্চল চিনি ছাদের দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো অমল গেছে কি না, আর অমল যে নীচে চলে গেছে তাতে আশস্ত হয়ে মাসিমার ঘরের দিকে দৌড় দিলো।
মাসিমা:-কি রে শুভ তোর খোঁজ নিচ্ছিল কেন?আবার কিছু করেছিস বুঝি? জানিস সে রাগি মানুষ কেন তাকে জ্বালাস?(এই কথাটা এক নিঃশাসে বলে টুক করে সাজা পান টা মুখে তুলে নিলো)
চিনি কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললো...মাসি,সাঁঝি দিদি সবসময় শুভর ঘরে থাকে কেন? আর আমি গেলেই সে রাগ করে...কোই সাঁঝি দিদিকে তো কিছু বলে না? শুভর প্রতি অভিযোগে তার মুখটা বাংলার পাঁচের মতো করে বসে রইলো।
মাসি ওর অমন মুখ দেখে হেসে গড়িয়ে পড়লো। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বললো...
তুই ঘুমা দেখি,অতো কথা বাড়াস নি। আর তুই ওকে শুভ বলে ডাকিস কেনো রে?...ও শুনলে খুব রাগ করবে,বড়দের কেউ নাম ধরে ডাকে বোকা?
চিনি খোঁপা করা চুলটা বালিশের গায়ে এলিয়ে দিয়ে ...মাসিকে বললো, আচ্ছা মাসি তুমি রবি ঠাকুরের কবিতা শুনেছো? আমি শুনেছি....বড়ই অদ্ভুত...কিচ্ছু বুঝিনা ছাই, কিন্তু শুভর মুখে শুনলে....সে রাতে আমার ঘুম আসে না গো। সারা রাত প্রতিটা শব্দ...আমার কানে বাজে। প্রথমবার যখন বাবার সাথে বিনুদিদির শশুরবাড়ি গেছিলাম ট্রেনে চেপে । সেই রাতেও না...ট্রেনের চাকার শব্দ এমন ভাবেই কানে বাজছিল।
ও মাসি...কথা বলো না কেন ঘুম দিলে নাকি...ও মাসি........(নাসিকা গর্জনের তোড় দেখে চিনি বুঝলো মাসি ঘুমিয়েছে) ও আর কথা বাড়ালো না....চোখ বুজলো.....
" তবু মনে রেখো যদি দূরে যাই চলে/যদি পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নবপ্রেমজালে। যদি থাকি কাছাকাছি,দেখিতে না পাও ছায়ার মতন আছি না আছি--
তবু মনে রেখো/যদি জল আসে আঁখিপাতে, এক দিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে,
তবু মনে রেখো।"
পর্ব-৩
আকাশের কোনে মন খারাপের কালো মেঘ জমেছে মনে হয় বৃষ্টি নামবে। কিশোরী চিনি ছাদ বারান্দায় বসে মাসির কাছে চুল বাঁধছে।
চিনির মনে অনেক প্রশ্ন, সারাদিন তার প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে মাসিমার নাজেহাল অবস্থা হয়।
এই যেমন এখন, চিনি প্রশ্ন করে বসলো-আচ্ছা বৃষ্টি নামার আগে কালো মেঘ জমে কেন আকাশে?
মাসিমা খানিক ধমক দিয়েই বললো, আঃ! চিনি এত প্রশ্ন কেন তোর মনে? মেয়েদের মনে এত প্রশ্ন থাকতে নেই জানিস না তুই সেটা?
চিনি ধমক খেয়ে, উদাসীন ভাবে আকাশে জমা কালো মেঘগুলোর দিকে তাকিয়ে রইলো।
রাত যত বেড়েছে ততই বেড়েছে বৃষ্টির তীব্রতা। আজ চিনি খুব খুশি, এই বৃষ্টির জন্যই তো ওই সাঁঝি দিদি আসতে পারেনি, বেশ হয়েছে, প্রতিদিন শুভর সাথে দেখা করতে আসা; হু: ঠাকুরগো এ বৃষ্টি যেন কদিন থাকে, বেশি না এক সপ্তাহ থাকলেই হবে, তবে দেখো ঠাকুর আমাদের বাড়িটা ভেসে যায়না যেন। ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে খুব।
ঘন ঘন বজ্রপাতে চিনির ঘুম ভেঙে যাচ্ছে।
ঘর থেকে বেরিয়ে, চিনি বারান্দায় এলো, বারান্দার এপার থেকে দেখা যাচ্ছে শুভর ঘরের দরজাটা খোলা...সে ঘরে আলো জ্বলছে। চিনির ইচ্ছে হলো সে একবার শুভর ঘরে যায়, কিন্তু ভয় লাগছে যদি শুভ কিছু বলে? জানি না কেন শুভ চিনিকে দেখলেই রেগে যায়। হয়তো চিনি ছোট বলেই।
চিনি ধীর পায়ে শুভর ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালো। মনের ভেতর এক অদ্ভুত অস্বস্তি হচ্ছে এ যেন নিজের সাথে নিজের লড়াই। পর্দাটা সরিয়ে আলতো করে উঁকি দিয়ে দেখলো, শুভ শুয়ে আছে; ঠান্ডায় কাঁপছে। চিনি ভাবলো যাই বলে বলুক আমি গিয়ে বরং চাদরটা চাপা দিয়ে আসি ওর গায়ে।
চাদর টা আলমারি থেকে নামিয়ে যেই শুভর গায়ে দিতে যাবে; শুভ, চিনির হাত টা শক্ত করে চেপে ধরলো এই প্রথম চিনি তার সোহাগের মানুষটার হাতের ছোঁয়া পেলো। এমন আচমকা আচরণে চিনির সারা শরীরে কেমন যেন কাঁটা দিয়ে উঠলো তার গলায় কি যেন আটকে আছে। আকাশে জমা কালো মেঘের মতো তার চোখেও এক বিন্দু জল উঁকি দিলো। এ এক অদ্ভুত অনুভুতি...
হঠাৎ নজর পড়ল শুভ যেন কি বিড়বিড় করছে কানটা অমলের মুখের কাছে নামিয়ে নিয়ে গেল, শুনবে বলে। শুভর উষ্ণ নিঃস্বাস চিনির কানের উপর পড়তেই লজ্জায় পানপাতার মতো রাঙা হয়ে উঠলো। বুকের ভেতরের হৃদয়স্পন্দন সমগ্র পর্দা ভেদ করে সারা ঘরের মধ্যে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। কিন্তু চিনির এই নতুন সুখের অনুভুতি বেশিক্ষন স্থায়ী হলো না, যখন সে শুভর মুখে সাঁঝির নামটা শুনলো.......
রইলো চাদর পরে মেঝের উপর, রইলো শুভ বিছানায় অসুস্থ হয়ে, চিনি এক ছুটে বারান্দা পেরিয়ে মাসিমার ঘরে। বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লো। সেদিন শুধু প্রকৃতি কেঁদেছে তা নয় কেঁদেছে সদ্য কিশোরী চিনিও।
সকালের হৈচৈ তে ঘুম যখন ভাঙলো তখন সূর্যি ঠাকুর মাথার উপর , চিনি ঘর থেকে বেরিয়ে দেখে, শুভর ঘরের সামনে খুব ভিড়। কাজরী পিসিকে জিজ্ঞাসা করতে বললো, জানিস না শুভর জ্বর এসেছে। এখন-তখন অবস্থা,কিছুতেই জ্বর নামছে না। এর আগেও একবার হয়েছিল তখন তুই জন্মাস নি, বুঝেছিস! শুভ তখন ৭ বছরের ছেলে। তখন ডাক্তার বলেছিলো, শুভকে সাবধানে রাখতে। কিন্তু এই দেখ আবার হলো জ্বর, এই জন্যই বৌদি সবসময় শুভবাবাকে হাতের তালুতে করে রাখতো; বৌদি নেই ছেলেটার এই অবস্থা।
চিনির মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল, ইস! যদি সে চাদরটা কাল চাপা দিয়ে আসতো তাহলে হয়তো এমনটা হতো না।
কলকাতার নামি হাসপাতালে ভর্তি করা হলো শুভকে অনেক ভারী ভারী ওষুধ খেতে হয়েছে কদিন,চলেছে ইনজেকশন আর স্যালাইন। এই ভারী অসুখে শুভর চেহারা অনেক খারাপ হয়ে গেছে। সেই মাধুর্য আর নেই তার মধ্যে।
ওদিকে সাঁঝির বাড়ির লোকেরা শুভর এমন দুরবস্থা দেখে সাঁঝির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা করতে শুরু করে, সাঁঝির অন্যত্র বিয়ে ঠিক করলো। যদিও একবার সাঁঝি আপত্তি করেছিল, কিন্তু সে যখন স্বয়ং শুভকে দেখলো তারপর সে নিজেও তার দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেল।
শুভর ছোটকাকা প্রত্যুষ এর সাথে ভাগলপুর নিবাসী কনিনিকার মানে চিনির মাসির বিয়ে হয়।
চিনি তখন অনেক ছোট। তারপর চিনির বাবা-মা মারা যায়, আর কনিনিকা মাসি তাকে এই আসানসোলে নিয়ে আসে।
এই কথা গুলো খুব মনে পড়ছে আজকে, আর পড়বেই না বা কেনো, আজ তো চিনির শেষ দিন এই আসানসোলে, তার বিয়ে কলকাতার এক বড় পরিবারে ঠিক হয়েছে, সেদিনকার সেই ঘটনার পর কেটে গেছে ৬ বছর...চিনিও এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। কিন্তু চিনির মনে শুভর উপস্থিতি আজও উজ্জ্বল...না না সেদিনের অসুখে শুভ মারা যায়নি....শুভ আছে। তার নিজের ঘরের মধ্যে, সেই দিনের পর থেকে সে আর বাইরে বের হয়নি, কারণ সে তার সাঁঝির থেকে চির বিরতি পেয়েছে বলে, নিজেকে বন্দি করে ফেলেছে চার দেওয়ালের মাঝে। তার মুখে আর সেই রবি ঠাকুরের কবিতাও সোনা যায় না। চিনির দীর্ঘ্য ভাবনায় ছেদ ঘটিয়ে মাসিমা ঘরে উপস্থিত হলেন...
পর্ব-৪
মাসিমা-"এই চিনি তোর হলো? ওরা যে এসে যাবে, আশীর্বাদ টা যদি লগ্নের মধ্যে না হয় তবে আমি হেস্তনেস্ত করে দেব বলে দিচ্ছি।"
মাসির এই কথা গুলো পুরাতন হয়ে গেছে...চিনি কিছু না বলে নিজের কাজে মন দিলো। মাসিও বকতে বকতে বেরিয়ে গেল।
চিনি ঘর থেকে বেরিয়ে শুভর ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। শুভ তখন কাগজে কি একটা লিখতে ব্যাস্ত। চিনি এসেছে সে বুঝেতে পেরে, পিছন ফিরে তাকাতেই, ইতস্তত বোধ করে চলেই যাচ্ছিল চিনি, কারণ অন্যান্য দিনের মতো এবারও হয়তো শুভ রাগ করে চলে যেতে বলবে;নয়তো ওকে সাঁঝি ভেবে ভুল করবে।
উল্টো দিকে পা বাড়াতে যাবে, চিনি....হঠাৎ! চিনি বলে ডেকে উঠলো শুভ। এই ডাক শুনবে বলে চিনির কান কতবছর ধরে অপেক্ষায় রয়েছে, কিছুক্ষনের জন্য হলেও হারিয়ে গেছিল চিনি, ও কি ঠিক শুনলো?
আমার ঘরে আসতে নেই বুঝি? এত টাই পর করে দিয়েছ আমায়?-এক যন্ত্রনাময় আবেগ ঘন গলায় কথাটা বললো শুভ।
চিনি চোয়াল শক্ত করে ঘুরে দাঁড়ালো,শুভর চেহারা সেই আগের মতো নেই, এক অমানবিক ক্লান্তিতে ঢাকা পরে গেছে সেই মায়া মাখানো মুখটা, শরীরটাও ভেঙে গেছে, যাক! তবু শেষ বেলায় তুমি আমায় চিনতে পারলে শুভদা।
শুভ খানিক চুপ করে থেকে আবার বললো- শুভ ডাকটাই বেশি সুন্দর লাগে। দাদাটা যোগ করো না তাতে।
চিনির চোখে আবার সেই আষাঢ়ে মেঘের জল দেখা দিলো। কিন্তু চিনি এবার আর কিছুতেই গলবে না। তার মন পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে এখন। আজ তার শুভর ডাককেও সে অস্বীকার করতে শিখে গেছে...তাই সেই ডাককে অবহেলা করে চিনি ঘরে ফিরে গেলো।
সব অনুষ্ঠান সুষ্ঠ ভাবে মিটলো, বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামলো সারাদিনের ধকল কলের জলে ধুয়ে দিয়ে একটা কাপড় জড়িয়ে নিজের ঘরে এসে বসলো। অন্ধকার নেমেছে, প্রতিদিনকার মতো আজও সন্ধে পড়ছে বাড়িতে, কিন্তু চিনি আলো জ্বালায়নি ঘরে...আজ তার নিস্তব্ধতাকে সে অন্ধকারে ভাসিয়ে দেবে বলেই ঠিক করেছে। জলে ভেজা চুলটা পিঠের উপর খেলিয়ে দিয়ে, জানলার সামনে এসে দাঁড়ালো....বাইরে কালো মেঘ ফুঁড়ে দুএক ফোঁটা বৃষ্টি আজ প্রকৃতির বুকে ঝরে পড়ছে।
হঠাৎ!এক চেনা গলা তার সমস্ত আকর্ষণকে ভেদ করলো-----
চিনি, তুমি অন্ধকার কেন করে রেখেছো ঘরটা? তোমার তো এখন আলোয় থাকার কথা...অন্ধকারে তো তলিয়ে গেছি আমি।
চিনি চাইলে উত্তর দিতে পারতো, কিন্তু আজ তার নিস্তব্ধতা সব উত্তর দিয়ে যাচ্ছে....
শুভ জানলার কাছে এগিয়ে গেল, চিনির আঢাকা কাঁধে হাত রাখলো শুভ সেই শিহরণ জাগানো স্পর্শে চিনির সমস্ত শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠেছে আবার সেই কিশোরীবেলার আষাঢ়ে দিনের মতো।
আজ আর চিনির চোখের জল বাঁধ মানলো না। শুভ তাকে, জিজ্ঞাসা করলো-চিনি, তুমি আমায় এখনো সেই আগের মতো ভালোবাসো?
চিনি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না, শুভর বুকে মাথা রেখে সে সব ভুলে গেল। শুভও তার সবটুকু দিয়ে নিজের বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরলো চিনিকে। ঘরের ভেতরের মনখারাপের বৃষ্টি আজ বাইরের আষাঢ়ের বৃষ্টিকে হার মানলো....
যখন শুভর হুস ফিরলো, সে বুঝতে পারলো সে আর তার ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে আটকে নেই, সে আজ ভালোবাসার তাগিদে বারান্দা পেরিয়ে.... চিনির ঘরে উপস্থিত হয়েছে। তার দেহ আজ চিনির দেহকে স্পর্শ করেছে। আজ সে পুরোপুরি চিনির হয়ে গেছে, যে কিশোরী কে সে একদিন অবহেলা করে দূরে ঠেলে আজ তার মধ্যেই নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে শুভ। এ এক অদ্ভুত খেলা...যে হেরেছে সে তো হেরেইছে আবার যে জিতেছে বলে মনে হয় সেও হেরে ভুত।
সমাপ্ত
Post a Comment