কাঁকড়া মাছ কচ্ছপ যা পায় তাই দিয়ে সংসারটাকে সে সচল রেখেছে ।

 

Story and Article

উলোটপুরাণ

বিশ্বনাথ পাল

মনের মধ্যে হাজার দ্বন্দ্ব যখন পাখনা মেলে প্রজাপতি হয়ে আকাশটাকে ছেয়ে দেয় ঠিক সেই সময় নিশাকর পলুই হাতে নদীতে নামে ।কাঁকড়া মাছ কচ্ছপ যা পায় তাই দিয়ে সংসারটাকে সে সচল রেখেছে ।বছর বিয়োনি বউটা ওর সেই যে গেছে আসার নাম নেই।শাশুড়ি বলেছে আর উমাকে পাঠাবে না।নিশাকর নামটা বাপের দেওয়া হলেও ও আসলে নেশাখোর।পাঁড় মাতাল ।বউ পাশে থাকলে ওর কসরত দেখে কে।কুকুরে দয়া করে মুখে গরমজল দিলেও চোখ খোলে না।

সব সামলাত উমা।অভাবের সংসারে জাঁতার মতো পেশাই হত উমা।তবুও মুখে রা কাড়ে না।সব কিছুতেই মানিয়ে নেবার একটা বাসনা ছিল ওর ।

নিশাকর এমনিতে খুব ভাল পেটে তরল না পরলে ওর মতো সজ্জন লোক মেলা ভার ।তবুও মাতাল বলে সকলে অবজ্ঞা করে।সময় জ্ঞানের অভাব চূড়ান্ত বলে দুরে সরিয়ে রেখে নিজেদের কদর বাড়াতে চায় ।ওসব ফন্দি ফিকিরে মন গলে না নিশাকরের।সে লোকের কাঁচা লঙ্কাটি পর্যন্ত তোলে না।মানুষের উপকার ভিন্ন ক্ষতির চেষ্টা করে না।

এক সন্ধার ফিট ফিটে জ্যোৎস্নার আলো গায়ে মেখে নেশা করে বাড়ি ফিরছিল হঠাৎ পায়ে ঠেকল একটা কি।ব্যাঙ বলে পায়ের লাফিয়ে ওঠে ।ছিটকে দূরে সরে যায় ব্যাঙটা।তবুও নড়ছে না।ব্যাঙটা কি সত্যিই মরে গেছে কিনাহাতে নড়ে দেখতে গিয়ে দেখে সেটা একটা মানি ব্যাগ।ঘরে এসে লম্ফ আলোয় দেখে অনেক টাকা ভরা রয়েছে ।একটা কোঁকড়ানো চুলের গায়ের সরেশ বড়লোক ডালুকাকার ছবি।

শুয়ে পড়ে ।এতগুলো টাকা।রাতের ঘুম নষ্ট হয়ে যায় ।এতগুলো টাকা কি এই ভাঙা ঘরে রাখা ঠিক হবে।উমাটাও এই বিপদের সময় বাপের ঘরে বসে আছে।নেশার ঘোর ছুটে গেছে।ফুকফাক বিড়ি টেনেও যখন মাথায় একেবারে বুদ্ধি গজাচ্ছে না তখন সে বেড়িয়ে পড়ে।

কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করছে।রাতে পাহারাঢ় চলছে।দল বেঁধে যুবকের দল।ওদের তোয়াক্কা না করেই নিশাকর সদরের কাছে ডাক পাড়ে।ছাতুবাবু চোর এসেছে জেনে বন্দুকে ফায়ার করতে যাচ্ছিল।নিশাকর হেঁকে বলে ডালুকা ।গুলি ছুড়তে হবে না।আমি চোর ভাকাত নই।বাউরিদের নিশা গো।চরণ বাউরির আর পক্ষের ছেলে।আমার মা নোকি বাউরী মরার সময়েতে তোমাদের ঘরের ঝি ছিল।

একবার এসো না।খুপ দরকার ।একদম জরুলি।এসো কা- কা।
ওরে কাল আসিস।আজ সদরে চাবি পড়ে গেছে।কাল আসবি।

কাকিমা ততক্ষণে বাইরের লাইট জ্বলিয়ে নিশাকরকে দেখে সদর দরজা খুলে দিয়েছে।কোন বিপদ আপদ তো হতে পারে এই ভেবে।পিশাকর ওর পায়ের কাছে মানি ব্যাগটা রাখে।বলে খুড়োর একটা ছবি অয়েছে বলে রাতেই এলাম।

ঢালু কাকার স্ত্রী পেটমোটা ব্যাগটা হাতে নিয়ে অবাক হয়।দু হাজার টাকার নোট অন্তত গোটা কুড়ি ।সেই সঙ্গে এটি এম কার্ড ও রয়েছে দুটো।

কার্তিক সুড়ির দোকানে কখনো কখনো ডালু মুখুর্যের মুখ দেখি যায় ।আজ কোল্ড স্টোরেজে আলু বেচে মোটা টাকা নিয়ে মন হাল্কা করতে যথাস্থানে গিয়েছিল।স্রেফ দশ টাকা চেয়ে ছিল ডালুকার কাছে আব্দার আর কি ---মামার বাড়ির আব্দার।রাখ যা!ফোট। একটা টাকাও নেই।

মাঝরাতে সেই অপমান করা নেশাখোর মানুষটার কাছ থেকে এটিএম কার্ড আর টাকা গুলো পেয়ে আনন্দে লাফিয়ে ওঠে ডালু মুখুর্যে ।