টলস্টয় ঘর বাঁধুক তোমার আঙিনায় ভৈরোঁর গানে গানে ওয়ার্থ ফিরে আসুক কবিতার ভাবনায় শেলী ঘুরে ফেরে তোমার আনন্দ ধারায় কিটসের দেখা পাই বিরহের যন্ত্রনায়

Story and Article



রণেশ রায়ের কবিতা


প্রথম প্রেম 


আমি  ভেসে চলি রক্তের স্রোতে

কে যেন আঘাত করে চেতনায়,

স্নায়ু জগতে রক্ত ঝরে অবিরাম

স্বপ্ন পালায়  ছুটে, ঘুম ভেংগে যায়

কে এক বিদেহী আমার মনোজগতে

নৃত্য করে অজানা এক মুদ্রায়,

আমাকে সে ডেকে ফেরে নিজের ইশারায়,

আমি চিনতে পারি না তাকে;

সে কানে কানে বলে যায় আমাকে,

'চিনে নাও  এসেছি আবার',

মুহুর্তের মধ্যে মাটি কেঁপে ওঠে 

জেগে ওঠে বিস্মৃতির অন্ধকার 

স্মৃতি ফিরে আসে আমার

আমি চিনতে পারি তাকে এই আঁধার বেলায়

সে  শৈশব প্রেম আমার,

সে যে আমারই মধ্যে আরেকজন আমি

দানবী সে আমার হৃদয়ের বাসর শয্যায়।



বন্ধু আমার

 


সূর্য অস্ত যায় রাত ঘনায়

নিবিড় থেকে নিবিড়তর হয় রাত

সে দানবী জড়িয়ে ধরে আমায়

 আরও নিবিড় ভাবে আমাকে পেতে চায়।


পরম বন্ধু সুহৃদ আমার

আমিও পেতে চাই তাকে

পরম আদরে সোহাগে চুম্বনে,

দুহাত বাড়াই, পেতে চাই  আলিঙ্গনে।


সব যন্ত্রণা শেষে সে আসে আমার দুয়ারে

ভোরের সূর্যোদয়ে ভৈরোর গানে গানে

আমার চেতনার আঁধারে সন্ধ্যা দীপ জ্বলে

নিঃসঙ্গতার একাকিত্বে স্তব্ধ এ জীবনে

ঝর্নার কলকল শোনা যায়

তার উপস্থিতিতে দুর হয় একাকিত্ব আমার

ভোরে উদয়ের পথে

দূর হয় আজের এ অন্ধকার

তার চোখের আগুনে আমার হৃদয় প্রদীপ জ্বলে

আমার চেতনার প্রচ্ছদে নতুনের ছবি আঁকে।


এ যে আমার জীবন উপাখ্যান

এক কণ্টকাকীর্ণ পথে আমি হেঁটে চলি

সঙ্গে আমার সে দানবী বন্ধু 

সে যে প্রত্যয় আমার সে আমার নিশান

রাত শেষে উদয়ের পথে চলি আমরা

চলি আমরা সূর্যের দহনে সন্ধ্যার রক্ত রাগে

যতক্ষণ না পৌঁছই আঁধার শেষে নতুন দুনিয়ায়।





বন্ধুত্ব


আজ নিবিড় থেকে  নিবিড়তর এ রাতে

টলতে টলতে কোথায়  সে যায়,

আরও  ঘনিষ্ট ভাবে কাকে পাবার আশায়?


কোথাও যে খুঁজে পায় না তারে

এ নীরব রাতে আঁধার বন্ধু তার

আলিঙ্গনে পায় তাকে  পরম আদরে।


হে  একাকীত্বের বন্ধু, আজের এ  আঁধার

মুক্ত করো তাকে এ  একাকীত্বের হতাশা থেকে,

উঠে আসুক সূর্যালোকে, জীবনের স্পন্দনে আবার।


হে কষ্ট যন্ত্রণা ! ধ্বংসের মুখে বন্ধু তার,

এ আঁধারের  নীরব আত্মীয়,

ত্রাতা হয়ে দেখা দাও আবার।


এই যে জীবন সংগীত আমার

কন্টকাকীর্ণ জীবনের এ পথে

আঁধার  সারথি তোমার যাত্রা রথে।


হে একাকীত্ব, বিচ্ছিন্ন তুমি,

এ রাতের  সান্নিধ্যে আলিঙ্গনে তার

পান কর মুক্তির আনন্দ সুধা তোমার।



না যেন হই 


না যেন হই শুধু গ্রহীতা 

 হ' তে চাই না শুধু দাতা

যেন হ‘তে পারি গ্রহীতা 

আবার এ জীবনে আমার 

যেন হই দাতা

যা পাই এ জীবনে 

দিয়ে যাই তা নিজেকে শূন্য করে 

এসেছি শূন্য হাতে 

ফিরে যাই আমি শূন্য হয়ে 

রাখি না কিছুই নিজের তরে।


যতটুকু প্রয়োজন আমার 

গ্রহণ করি তা একান্ত কৃতজ্ঞ ভরে

সামান্য যা দেওয়ার ক্ষমতা আমার

দিয়ে যাই সব উজার করে।


সেটাই 


যদি ভুল করি শুধরে  দিও তা 

কিছু মনে করব না 

শুধরে  নেব নিজেকে,

কিন্তু জেনো ভুল করাটা

সেটা আমার অধিকার,

কে ছিনিয়ে নেবে সেটা?

এত স্পর্ধা কার !


এটাই আমার স্পর্ধা

এটাই আমার অধিকার

এটাই আমার অহং

এটাই নিপুণ সূচীকর্ম আমার,

ভুল করা ভুল বলা

ভুল পথে চলা

আবার তা শুধরে নেওয়া

শেষ লড়াইটা লড়া

মিথ্যেটাকে উল্টে দেওয়া

সত্যটাকে খুঁজে পাওয়া

শেষ পর্যন্ত যাওয়া

সে যে অধিকার আমার;

কে কাড়বে সে অধিকার?

এটাই আমার স্পর্ধা

এটাই আমার অহং

এটাই নিপুণ সূচীকর্ম আমার।



বন্ধুবর স্বপন গুপ্ত স্মরণে 


তুমি ফিরে আস বার বার 


রাত গভীর হয়,

গভীর এ রাতের অন্ধকারে ঘুম নেই,

 চোখ বুঝে থাকি 

দেখি না কিছু এ আঁধারে,

তবু দেখি তোমাকে,

ফিরে আস তুমি স্মৃতির ডিঙা বেয়ে

বন্ধু প্রিয়জনের কাঁধে কাঁধ রেখে;

তোমাকে ফিরে পাই কফি হাউজের আড্ডায় 

আমাদের বাড়ির বৈঠকখানায় 

হারদিঞ্জ হোষ্টেলের ঘরে দেখা পাই তোমার 

তুমি দেখা দাও সাদার্ন পার্কের ঘরটায়

তোমায় পেয়েছি লেক গার্ডেন্সের আঙিনায়

তোমাকে পাই তোমার গানের মজলিস মেলায়

তোমার কণ্ঠ ভেসে আসে স্মৃতির পর্দায় ।


তোমার মধুর হাসি ভুলিয়ে দেয় বিষন্নতা 

জাগিয়ে তোলে আমাদের প্রত্যয় প্রসন্নতা, 

তোমার গান সে আঁধার রাতে আলোর ছটা

ভোরের সকালে ফুল হয়ে ফোঁটা;

আজ তুমি নেই তবু আছ,

তুমি আছ তোমার হাসিতে তুমি আছ গানে গানে, 

তুমি আছ প্রিয়ার শরীরের ওম নিতে 

তুমি আছ আমাদের সকলের প্রাণে

তোমার দুহিতার অন্তর মাঝে,

তোমাকে পাই আমি সর্বক্ষণে

অনিশ্চিত আমার এ জীবন প্রান্তরে।



সেটাই তার খেলা

 

আমার এ কবিতা 

ছোট্ট ছোট্ট কথা

বলে সে  যে মেলা

সেটাই তার খেলা।


*Drinking From The Saucer*

 John Paul Moore এর কবিতা অবলম্বনে


উপচে পড়ে পেয়ালা


নই আমি কেউ কেটা নই আমি প্রাজ্ঞ

গড়ে তুলতে পারিনি আজও নিজ ভাগ্য

তাতে কিছু যায় আসে না আর

কারণ সুখের অভাব নেই যে আমার।


আমার জীবনই আমার যাত্রা

যা রপেছি ফসল পেয়েছি  বেশি মাত্রা

পান করি আমি আমার পেয়ালা ধরে

কারণ, সে পেয়ালা উপচে পড়ে ।


আমার নেই যথেষ্ট  কিছু

তা দিয়ে চলা সবার পিছু পিছু

কিন্তু আমি ধনী একজন

আছে ভালোবাসা বন্ধু আপন জন।


বিধাতার আশীর্বাদে ধন্য আমি

তার অনুগ্রহ আমার ওপর জানি

পান করি আমার পেয়ালা ধরে

কারণ সে পেয়ালা উপচে পড়ে ।


আমি তেমন ব্যস্ত নই নিজের কাজে

তাই তুলে নিতে পারি 

অন্যের  ভার নিজের কাঁধে

পান করি আমাদের পেয়ালা ধরে

কারণ সে পেয়ালা উপচে পড়ে।



সময়


বাতাস বয়ে যায়, সময়  পথ চলে 

অবিরাম ক্লান্তিহীন চলা তার

জীবনের এপার  থেকে ওপার

অন্ত থেকে অনন্ত,

সে এক অনন্ত পথিক।

স্মৃতির বৈঠা বেয়ে

 পোঁছে যায় বিস্মৃতির অতলে

আলো  আঁধারের খেয়া পেরিয়ে কৃষ্ণ গৃহে।

দিন থেকে রাত রাত থেকে দিন,

নিজেকে প্রদক্ষিণ করতে করতে 

আলো থেকে আঁধারে যাত্রা তার,

আবার আঁধার পেরিয়ে নব দিগন্ত ।

অনাগত ভবিষ্যত মুহূর্তে হয়ে যায় বর্তমান,

বর্তমান হাঁটা দেয় অতীতে

আমরাও চলি তার সাথে

এ জীবন প্রান্তর ধরে 

প্রসূতি  থেকে সমাধি অন্তরে

সমাধি স্তম্ভ হয়ে

নতুনের ছায়া পথ ধরে পুরাতনের গর্ভ গৃহে।



আমি তোমাদের লোক


মাথার ওপরে অবাধ আকাশ

স্রোতস্বিনী ডিঙ্গা বায় কলকলরবে

মৃদুমন্দ বয়ে চলে বাতাস,

কবিতায় নাচে গানে মিলেছি সবে

আমার মাথায় ফুটেছে কাশ।


তোমরা জানতে চাও আমার পরিচয়,

আজের এই সায়াহ্নে সূর্য  অস্তমিত

দিগন্তে ওপারে রক্ত লাল আকাশ,

রাঙিয়ে নিয়েছি নিজেকে তোমাদের রঙে

বলি আমি, মান বা না মান

ডাক বা না ডাক

আমি আছি সকলের মাঝে

ক্ষুদ্র আমি, আমার একটাই পরিচয়

আমি তোমাদের  লোক।


আমি ফিরে যাই আমার অতীতে

ফিরে পাই কৈশোর স্পর্ধাভরা যৌবন,

আজের এ নিশি রাতে

আমার জীবনাকাশে নতুন সূর্যের উদয়,

তোমাদেরই মাঝে আমি বাঁচি মরি

আমার একটাই পরিচয়

আমি তোমাদের লোক।



যাব আমি 


হৃদয়ের  উষ্ণতা সবটুকু নিংড়ে নিয়ে

কোথায় মেলালে সব আলো নিভিয়ে 

উড়ে গেলে উড়ানে কোন সে ওপারে !

নিঃস্ব রিক্ত আমি একা জেগে থাকি এ আঁধারে।


জানি আমি আমাকেও যেতে হবে 

যাব আমি চলে নীরবে পদব্রজে 

তবে ঠান্ডা শেষে উষ্ম সে ভোরের সকালে 

এ আঁধার পেরিয়ে নতুনের আগমনে।


আমি যাব সকলের সাথে 

পদচিহ্ন রেখে  পথের প্রান্তরে 

যাব আমি উদয়ের পথে 

পরপ্রজন্মের কাছে নিজের বার্তা রেখে। 






জীবানন্দ দাশের কবিতার সৌজন্যে


আরও একজন বন্ধু যদি পাওয়া যায় 


একজন বন্ধু আমি পেয়েছি দিনান্তে জীবন সায়াহ্নে 

একজন বন্ধু আমি পেয়েছি এ রাতের আঁধারে, 

আরও একজন বন্ধু যদি পাওয়া যায় 

ভোরের সকালে শিরীষ এর মাথায় মুক্ত হয়ে ঝরে, 

আমি তার কাঁধে কাঁধ রেখে পথ চলি অবলীলায় 

----- বলে সে হাত বাড়িয়ে দিল এ আঁধারে, 

ভোর হতে বন্ধুকে নিয়ে গেয়েছে সে মিলনের গান।


একজন বন্ধু আমি পেয়ে গেছি ধানক্ষেত প্রান্তরে 

একজন বন্ধু আমি পেয়ে গেছি বন্দরে, 

আরও একজন বন্ধু যদি পাওয়া যায় এ জীবনে 

বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ় হবে কাঁটাতার ভেঙে 

------- বলে সে বাড়িয়ে দিল হাত কাঁটাতারের ওপারে 

ওপার  থেকে কোন এক বন্ধু টেনে নেয় বুকে তাঁকে 

এক পৃথিবীর ভুল বন্ধুর ভুল শুধরে যায় মুহূর্তে।


জীবানন্দ দাশের ‘তোমায় আমি দেখেছিলাম‘ কবিতার সৌজন্যে 


জানো না 


তাকে তুমি  পেয়েছিলে আপন করে 

সাগরের ঢেউয়ে রামধনু রঙে আকাশ প্রান্তরে 

কোন সে অজানা এক দেশে 

দিনান্তে রাত শেষে আলো আঁধারে ।


এখন তাকে তুমি পাওনা আর 

সে কি চলে গেছে সাত সমুদ্র তেরো নদী পার 

তার সাথে তুমি কি মিলেছ পঞ্চ নদীর সঙ্গম মেলায় 

না কি আকাশের ওপারে আকাশ

বাতাসের ওপারে বাতাসে চলে গেছে সে 

যেখানে শান্তির পারাপার, নীরবতা ঘনায়।


পদ্ম পাতায় সে কার নাম দিয়েছিলে লিখে 

তুমি কি ভালোবেসেছিলে তাকে ?

ডেকেছিলে কি তাকে মনের গভীরে ?

শিশির বিন্দুর মত দিয়েছিলে পদ্মপাতায় ভাসিয়ে,

শিশির বিন্দু জল হয়ে ভাসে সূর্যের কিরণে 

জানো না সে তোমার কোথায় ভেসে গেছে।


জীবানন্দ দাশের ‘কেন মিছে নক্ষত্ররা‘ কবিতার সৌজন্যে 


কেন 


কেন কলি ফুল হয়ে ফোটে ?

নক্ষত্ররা জ্বলে ওঠে আকাশে 

পাপড়ি মেলে একে একে। 

কেন পাখি উড়ে চলে বাতাসে ?

কেন মিছে রাত শেষে ভোর হয় ?

কেন পূর্ণিমার রাতে চাঁদ হাসে ?

কেন শিশির বিন্দু মুক্ত হয়ে ঝরে ?

মেলে গিয়ে সূর্যের কিরণে ।


ময়ূর কেন নাচে, বুলবুলি গান গায়, 

বনে বনে হরিণ কেন দৌড়ে বেড়ায় ?

মানুষ যে পায়ের তলায় ঘাস, কেবলই ঘাস,

আমরা যে ঘুষের কারবারি 

টাকার থলি ভালোবাসি 

দূষিত বাতাসে নিয়ে থাকি শ্বাস,

টাকাই যে সবচেয়ে দামী এ জীবনে 

ময়ূর নাচে কেন তবে আর 

হরিণ কেন দৌড়ায় বনে বনে।




জীবানন্দ দাশের‘ তোমায় ভালোবেসে‘ কবিতা অবলম্বনে।


তবু 


আমার চেতনার আলোয়ে

ভাবনা ভেসে চলে বাতাসের দোলায় 

যেন পদ্মপাতায় জল 

স্থির হয়ে বসে না একটুও 

মুহূর্তে গড়িয়ে যায় কোথায় 

ঠিক যেমন তোমার ভাবনা আমার চেতনায় ।


তুমি শুভ্র সকালে 

শরতের বর্ষা আমার চেতনায় 

সাদা মেঘে  জন্ম তোমার 

কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি যেন ভোরের শিশির বিন্দু 

রোদ উঠলেই পলায়ন তার, 

ক্ষণস্থায়ী  সে ভাবনা আমার চেতনায় 

বাতাসের দোলায় ভেসে চলে যায় 

তোমার ভালোবাসা আমার ভাবনায়।


তবু তোমার প্রেম নিত্য চঞ্চল 

অবিরাম আসা যাওয়া আমার  হৃদয় প্রাঙ্গণে 

উজ্জ্বল আমি সে প্রেমের মহিমায় 

চিরন্তন বাঁচ আমার ভাবনায়,

তাও পদ্মপাতায় সে প্রেম কি ধরে রাখা যায়?


সে সত্য জেনেছি আজ 

বাতাসের দোলায় কিছুই স্থিতি নয় 

অনিত্য সবই এ জীবনে

বাতাস তুফান হয়ে ওঠে 

ভাবনা  ভেসে চলে যায়

মেলে গিয়ে অপরের সঙ্গে 

তবু প্রেম থেকে যায় অম্লান।


তাও আছে বেঁচে 


অনেক দিন হয়ে গেল দেখা নেই তার 

সে চেনে না আর আমায়,

আমিও ভুলেই ছিলাম ।

হঠাৎ অন্ধকার ভেদ করে 

কার যেন ডাক শোনা যায় 

চমকে উঠি, কে ? কে তুমি ? প্রশ্ন আমার, 

প্রশ্ন উগলে আসে গলা ভেদ করে ।


অস্পষ্ট সে ছায়া মূর্তি,

মৃদু হেসে বলে, দেখ তো চিনতে পারো কি না ?

উদভ্রান্ত আমি জ্বলে উঠি,

বুঝি না কি উত্তর দেওয়া যায় 

কি কথা বললে মেটে আমার দায়, 

বলব কি না ভাবি,

আমি আছি তোমার অপেক্ষায় ----

কিন্তু মিথ্যে বলি কি করে ?

আমি যে ডুবে থাকি কত অপকম্মে

মনের থেকে তাকে সরিয়ে রেখে 

আমি যে আছি খোশ মেজাজে,

সেও তো ছিল তার মত করে, 

মনের দরজাটা বন্ধ হয়ে গেছে কবে ।

তাও মনে হয় 

সত্যিটা বেরিয়ে আসে মন ছেঁচে

মরে গিয়েও সে আছে বেঁচে ।



উজান  ব্যানার্জির কবিতার সৌজন্যে


বসন্ত আসবে আবার 


প্রথম প্রেমের বসন্ত সেদিন

উত্তাল  আকাশ  বাতাসে তুফান

মহাকাল ডাকে  আমায়।


বসন্তের বজ্র নির্ঘোষ

সময় আমায় ডেকে যায়

আমি শুনি সময়ের  ডাক।


যে কথা বলার আমার 

বলা হয়নি  আর

আমি  ভালোবাসি তোমায়।


সমুদ্র  হাতছানি দেয় ঢেউ এ ঢেউ এ 

আমি  চলি উজানে  দাঁড় বেয়ে

মিলতে হবে মোহনায়।


তুমি  রয়ে  গেলে এ  পার

জয়ের ডালি হাতে দিন গুনে চল অপেক্ষায়

কবে আমি আসি  ফিরে আবার ।


পৌঁছতে পারি নি ওপার

আজের  এই মাঘের  ঠান্ডায়

অপেক্ষায় থাকি কবে বসন্ত আসে আবার।


সময় বয়ে যায় 

পাতা ঝরা এ ঠান্ডায় 

স্রোতস্বিনী স্রোত হারায়।


আজ জীবনের এ সায়াহ্নে 

আমি চল হারা 

তবু থাকি অপেক্ষায় ।



নতুন  সে বসন্তে ভৈরোর গান শোনা যায় 

আবার  মিলব দুজনে

মিলব আমরা মুক্তির মোহনায়।


বলি আমি  আমার অবলা কথা

আমি  ভালোবাসি তোমায়

আমি  ভালোবাসি  সবায়।


নতুন সকাল 


এসেছে এক নতুন সকাল 

রাতের অন্ধকার ভেদ করে 

পারি দিতে চায় সোনালি দিগন্ত

তপ্ত হয় রোদ্দুরের বৃষ্টিতে,

সূর্যের কিরণে বৃত্ত আঁকে

উদ্ভিন্ন সূর্যমুখী মালা গাঁথে আনমনে 

পুরোন শব্দের প্রচ্ছদে নতুনের দিশা খোঁজে, 

সে প্রচ্ছদে আমি আর আমার কবিতা 

নতুন আঙ্গিক খুঁজে পায় ।


এ এক নতুন সকাল 

আমার হৃদয়ের উত্তাপ 

সে আমাকে ডাকে ওই নীলিমায় 

নক্ষত্র মেলে এসে সে আঙিনায় 

আমরা মিলি বাতাসের দোলায় 

আমি ফিরি আমার চেতনায় 

আকাশে মেঘ বর্ষায়

 সিক্ত হই এ মিলন মেলায়।


সে এক নতুন সকাল

যাত্রা শুরুর   আহ্বান

নিশান হাতে শপথ  আমাদের

উষ্ম হৃদয়ে মিছিলে মিছিলে

চলি আমরা নতুনের পথে

সমুদ্রের ঢেউয়ে ঢেউয়ে

চড়াই উৎরাই ধরে 

উঠতে হবে পর্বত শিখরে।


শীত শেষে


মাঘের ঠান্ডায়

পাতা ঝরা নির্জন রাতে

নির্ঘুম চোখ আমার

বাতায়ন ধরে দৃষ্টি তার

আকাশ 'পরে  মহাকাশে

আমি থাকি পাহারায়।


মাঘ শেষে ফাগুনের ভোরে

জন্ম নেয় নতুন কিশলয়

আগমনী গান গেয়ে যায়

আমি থাকি নতুন দিনের অপেক্ষায়

শীত শেষে বসন্ত আসতে দেরি কোথায়!



কবিতা তুমি 


কবিতা, তুমি বেঁচে থাক,

আমার হৃদয়ের প্রচ্ছদে,  

প্রিয়তমা আমার, 

সুন্দরের ছবি আঁকো,

তুমি নেমে এসো আমাদের  ভাষায়,              

সময় বয়ে যায় 

আর নয় নয় আর ।


কবিতা, তুমি  বেঁচে থাক

 সকলের আশায় 

সহজ সরল  এ জীবনে আবার,

  দুর্বোধ্যতার   মুখোশ  খোলো  

জেগে ওঠো  কাব্যের  মহিমায়,  

তোমার কবিতায় দুর্বলের  কথা বল 

কথা বল জনতার, 

যাদের  দুবেলা  জোটে না আহার  

চিকিৎসা পায় না যারা 

শিক্ষা বড় ব্যভিচার ।


বিদ্রোহের  সুর  বাজুক  তোমার কবিতায়  

অশ্রু  ঝরুক  মন  বেদনায়,

ফিরে দেখো আবার 

তোমার কবিতায় সুকান্ত নজরুল খেয়া বায়,

প্রেম  ফিরে আসুক রবির  জ্যোৎস্নায়  

ফুল ফুটুক  হৃদয়ের কাননে  

ছন্দ নেচে উঠুক কল কল তানে

ভেসে চলুক   জোয়ারে  উজানে 

সত্যেরে দিশা করে 

সঠিক  নিশানা ধরে  

সত্যেনের  বাহু বন্ধনে।

     

 টলস্টয় ঘর  বাঁধুক তোমার আঙিনায় 

ভৈরোঁর গানে গানে 

 ওয়ার্থ  ফিরে আসুক কবিতার ভাবনায়  

শেলী ঘুরে ফেরে তোমার আনন্দ  ধারায়  

কিটসের দেখা পাই বিরহের যন্ত্রনায়   

গোর্কি  এসে বসুক চেতনার  বৈঠক খানায়,

আলিঙ্গনে আমরা সবাই 

কবিতার মূর্চ্ছনায় ।