সকাল থেকে মেঘলা আকাশ, তার সাথে হাওয়া বইছিল বেশ জোরে। কয়েকদিন গুমোট গরমের পর একটু স্বস্তি পেল রুম্পা। আজ যেন মনটা অন্যরকম একটা অনুভূতির আবেশে জড়িয়ে আছে। এখন এই সময় বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করতে হচ্ছে। তাই ওর ঘরের একটা টেবিলে অফিস থেকে দেওয়া ল্যাপটপটা ফিক্সড করে রেখেছে, অনেকটা ডেস্কটপের মতো। অফিসের টাইম মতো বসে পড়ছে চেয়ারে।
একটু ফুরসত পেলেই উঠে রান্নাঘরে মা বন্দনাদেবীকে সাহায্যও করে আসছে। কাজ না করলে মাইনে পাবে না। নো ওয়ার্ক নো পে-র শর্ত তো অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারে লেখা আছে। তাই সে আর কোনো কথা না ভেবে সকাল থেকে বসে যায় কাজে। মা মাঝে মাঝে চা আর শুকনো খাবার রেখে যান। তবে দুপুর দুটো থেকে আধ ঘণ্টার টিফিন আওয়ার। সেই সময় মা ভাত মেখে খাইয়ে দেন। আসলে তাঁর নিরাপত্তাহীনতার জন্য রুম্পাকে অনেক কিছু মেনে নিতে হয়।
তিনি যেন তাকে নিয়ে সব সময় চিন্তার মধ্যে থাকেন। এটা অবশ্য বেশিদিন হয়নি। বাবা মারা যাওয়ার পর যা কিছু অফিস থেকে পেয়েছিল তা ব্যাঙ্কে রেখে সুদের পয়সায় দিন কাটছিল। রুম্পার তখন ফার্স্ট ইয়ার। সে মায়ের পাশে থাকলেও টাকা পয়সার ব্যাপারে একটু দূরেই থাকত।ব্যাঙ্কের থেকে কত আর পাওয়া যায়। দিনে দিনে খরচ তো বেড়েই চলেছে। সেই খরচের সামান্য অংশের ভার রুম্পা লাঘব করেছিল টিউশনি করে।
দোতলা বাড়ির একতলায় থাকেন কাকারা। আগে অবশ্য এই আলাদা কিছুই ছিল না। সবাই যেন একই পরিবারের সদস্য। ছোটবেলার বেশিরভাগ সময় কেটেছে কাকার কোলে-পিঠে। তাঁকে দেখলে সে কোলে ওঠার জন্য ছটফট করত। কাকাও ওকে কোলে করে এদিক-সেদিক ঘুরিয়ে নিয়ে আসত। প্রথম স্কুলে যাওয়া ওই কাকার সাইকেলে চড়েই। তবে যা আবদার করত সব তাঁর কাছেই। বড় হয়েও সে অভ্যেস বজায় ছিল। কিন্তু কাকার বিয়ের পর থেকেই কেমন যেন সবকিছু বদল হতে শুরু করল। সকালে তাঁর ঘরে গেলেই কাকিমা কোনও অজুহাত দেখিয়ে ঘরে পাঠিয়ে দিতেন।
বাড়িটা দু-ভাগ হল, থালা-বাসন দু-ভাগ হল। এরপর থেকে বাবা কেমন একা থাকতে ভালবাসতেন। অফিস থেকে ফিরে দোতলায় রাখা চেয়ারে নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকতেন। কখনও কখনও চোখের কোণে জলও দেখেছে রুম্পা। এদিকে একতলায় যেখান থেকে সিঁড়ি উঠে গেছে সেখানে বড় পাঁচিল তুলে দিয়েছে কাকুরা। সেই পাঁচিল দেখে বাবা যেন আরো চুপ করে যান। বাড়ির উঠোনের একপাশে কাকু গ্যারেজ করেন গাড়ি রাখার জন্য।
বাবা তাতে কোনো আপত্তি করেননি বরং যেদিন গাড়িটা এসে থেমেছিল বাড়ির সামনে, তখন বাবার চোখ-মুখ থেকে আলো ছিটকে পড়ছিল। মা পাশে এসে দাঁড়াতে বাবা বলেছিলেন, আজ আমার বড় আনন্দের দিন। ছোটো নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে গাড়ি কিনেছে।
রুম্পাও আনন্দ চেপে রাখতে পারেনি। দৌড়ে চলে গিয়েছিল গাড়ির সামনে। কাকিমা ওকে দেখেই বলতে থাকেন, নতুন গাড়ি, কোথাও হাত দেবে না। রং চটে গেলে খারাপ দেখাবে।
রুম্পা আর দাঁড়ায়নি এক দৌড়ে এসে ঘরের দরজা বন্ধ করে হাউ হাউ করে কেঁদে ভেতরের কষ্টটা লাঘব করেছিল।
কয়েক দিন পরে এক রাতে বাবার স্ট্রোক হয়। নার্সিংহোমে ভর্তি হলেও শেষ রক্ষা করা যায়নি। মা তাকে জড়িয়ে ধরে হাউ হাউ করে কেঁদে উঠেছিল।
কলেজে ফাইনাল ইয়ার। পরীক্ষার রুটিন দিয়ে দেওয়ায় রুম্পার পড়াশোনার চাপও বেড়ে গেছে। সেইসাথে টিউশন নিতে সপ্তাহে তিনদিন প্রফেসরের বাড়িতে যেতে হয়।
মাসের প্রথম হওয়ায় ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার দরকার হয়ে পড়ে। দুদিন ধরে রুম্পা যাব যাব করেও যেতে পারে না।
দু’দিন পরে মা বলেন, তোর এখন পড়ার চাপ বেড়ে গেছে। তুই টাকা তোলার জন্য চেক লিখে দিস। আমি গিয়ে টাকাটা তুলে নিয়ে আসব আর দেরি করা যাচ্ছে না। মুদিখানা দোকান থেকে শিবুবাবু ফোন করেছিলেন। তাছাড়াও ঘরে তো সবকিছুই বাড়ন্ত।
মায়ের কথা শুনে চেকটা লিখে দিয়ে প্রফেসরের বাড়ির দিকে রওনা হয় রুম্পা।
গরমটাও আজ ভাল পড়েছে। ব্যাঙ্কে গিয়ে দ্যাখে অনেক লোকের ভিড়। দেরি হোক, তবু আজ টাকা তুলতে হবে। ভেতরের একটা চেয়ারও ফাঁকা নেই। চেক জমা দিয়ে টোকেন হাতে ঘরের এক কোণে গিয়ে দাঁড়ান। কিছুক্ষণ পরে একটি ছেলে এসে সামনে দাঁড়ায়। তাকে দেখে বেশ লাগে তার। সৌম্যকান্তি চেহারা। ছেলেটি বলে, মাসিমা, আপনি ওই চেয়ারটায় গিয়ে বসুন।
খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলে, না না, আমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
ছেলেটি মাথা দুলিয়ে বলে, আপনার কোনও কথা শুনব না। এখনও অনেক সময় লাগবে।
ছেলেটি নাছোড় হওয়ায় অগত্যা চেয়ারে গিয়ে বসতে হয়। লোকের ভিড়ে ভেতরের এসি চললেও ঠিকমতো কাজ করছে না। বসে থাকতে থাকতে মাঝে মাঝে অস্থির লাগে। ব্যাগ থেকে বোতলটা বার করে জল খায় আর রুমালের একটা অংশ ভিজিয়ে ঘাড়ে গলায় বুলিয়ে একটু স্বস্তি পান। কিছুক্ষণ বাদে টোকেন নাম্বার শুনে উঠে দাঁড়াতে মাথাটা ঘুরে যায়। নিজেকে কোনোমতে সামলে নেন। টাকাটা নিয়ে বাইরে আসতেই ছেলেটি এগিয়ে এসে বলে, আপনার কি শরীর খারাপ লাগছে? চলুন, আমি আপনাকে বাড়িতে দিয়ে আসছি।
কথা শুনে লজ্জা মেশানো গলায় বলে, না না, ঠিক আছি। একাই চলে যেতে পারব।
বলে আর দাঁড়ায় না। সামনে দাঁড়ানো রিকশায় উঠে যান। একবার চকিতে তাকিয়ে দ্যাখে ছেলেটি তার দিকে তখনও তাকিয়ে আছে। সে কাঁপা কাঁপা গলায় রিকশাওয়ালাকে বলে, শিবতলা চলো।
বাড়ির গেটটা খুলে ধীর পায়ে এগিয়ে যায় দোতলার সিঁড়ির দিকে। শরীরটা কেমন আনচান করছে। তারপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান যখন ফেরে দ্যাখে মাথার পাশে রুম্পা বসে আছে। আরও দুজন দাঁড়িয়ে আছেন। ভাল করে দ্যাখে তারা রুম্পার কাকা ও কাকিমা। ঘরটাও অচেনা লাগে। উঠে বসার চেষ্টা করতেই রুম্পার কাকা বলে, শরীর খারাপ নিয়ে ব্যাঙ্কে গিয়েছিলে বউদি! রুম্পা যখন পারবে না তখন আমাকে বলতে পারতে। এটুকু যদি না করতে পারি তাহলে আর কী হল।
কাকিমাও সাথে সাথে বলল, সিঁড়ির ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়লে, তোমার দেওর ওই অবস্থা দেখে দৌড়ে তুলে এনে বিছানায় শুইয়ে দিল। আগের কথা আর মনে রেখো না দিদি। দাদা তো ওই মনোকষ্টে চলে গেলেন। তোমার দেওর আজও দাদার জন্য কান্নাকাটি করে।
রুম্পা খেয়াল করে দেখেছে কাকিমার কথা শুনে মায়ের চোখে জল এসেছিল।
পরীক্ষা শুরু হতে আর দু-দিন বাকি। রুম্পা দিন-রাত এক করে পড়েই চলেছে। এক সন্ধেবেলায় মা এসে পাশে বসে বলে, জানিস রুম্পা, তোর কাকা বলছিল যে, আমাদের ব্যাঙ্কে যা আছে সেটা তুলে তাকে দিলে মাসে মাসে ডবল সুদ দেবে। ওর ব্যবসার জন্য টাকার খুব প্রয়োজন।
রুম্পা পড়া থামিয়ে মায়ের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, তুমি ওদের পুরনো ব্যবহার ভুলে গেলে। ওদের জন্যই তো বাবা… এখন একটু ভালমানুষী করল অমনি তুমি গলে জল!
মা শান্ত গলায় বলে, আসলে ব্যাঙ্ক থেকে যা পাই তাতে সংসার আর তোর পড়ার খরচ চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। অনেক জায়গায় ধারও হয়ে যাচ্ছে। বেশি পেলে ক্ষতি কী?
রুম্পা রেগে বলে ওঠে, এখন কেন, আমার পরীক্ষাটা হয়ে যাক। তারপর হবে, তুমি কাকুকে বলে দিও।
মা আরও শান্ত গলায় বলেন, আসলে ও একটা বড় অর্ডার পেয়েছে। তাই এখনই টাকাটা দরকার।
রুম্পা এবার চিৎকার করে বলে, তোমার যা ইচ্ছে করো। আমায় ডিস্টার্ব করবে না।
আর কোনও কথা না বলে ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। রুম্পা মায়ের ওভাবে চলে যাওয়া পথের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।
অফিস এবার মেইল দিয়ে জানিয়েছে আর বাড়ি থেকে নয়, অফিস যেতে হবে। কথাটা শুনে মায়ের চোখ-মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। রুম্পা হেসে বলে, তুমি চিন্তা কোরো না আমি ঠিক ম্যানেজ করে নেব।
মা চিন্তাগ্রস্ত গলায় বলেন, বাস ঠিকমতো চলছে না, অটো নেই, তুই যাবি কী করে?
রুম্পা মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বলে, আমাদের পাশের পাড়ায় একজন সিনিয়র থাকেন। তাঁর গাড়িতেই যাতায়াত করব।
মা এবার নিশ্চিন্ত হন। রাস্তাঘাটের যা অবস্থা তাতে একা যাতায়াতে চিন্তা হয়। অবশ্য কয়েক দিন ধরে খেয়াল করেছে, অফিস শেষ হওয়ার পর রুম্পা ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একবার জিজ্ঞেসও করেছিল, অফিসের পর কার সাথে এতক্ষণ ধরে কথা বলিস?
রুম্পা হেসে উত্তর দিয়েছিল, উনি আমার সিনিয়র। অফিসের কাজের ব্যাপারেই কথা হয়।
আর কথা বাড়াননি। অফিসের পরে এক-দেড় ঘণ্টা ধরে কী কথা থাকতে পারে! রাতে শুয়েও নিচু স্বরে কথা বলে! কিছু একটা আঁচ করলেও মেয়েকে বুঝতে দেন না।
এদিকে রুম্পার কাকা মাস দুয়েক ঠিকমতো টাকা দিলেও ইদানিং অনিয়মিত দেয়। চার মাস পার করলে দু-মাসের টাকা দিয়ে যায়। রুম্পার স্যালারির টাকাটা পাওয়ায় তেমনভাবে অভাব বোধ হয় না। তাই তার কাছ থেকে টাকা চাওয়ার আগ্রহ দেখায়নি।
সেদিন রুম্পার ছুটি ছিল। ওকে কিছু কথা বলার জন্য উশখুশ করছিলেন মা। রান্নাবান্না আর ঘরের কাজের জন্য বলা হয়ে ওঠেনি। ভেবেছিলেন সন্ধের দুজনে সময় চা খাওয়ার বলবেন। কিন্তু দ্যাখেন, রুম্পা বিকেল হতেই সেজেগুজে কোথাও বেরোচ্ছে। তাকে দেখে হতভম্ব হয়ে যান। সে তো ছুটির দিনে কোথাও বেরোতে চায় না। মায়ের সামনে আসতেই বলেন, কোথায় যাচ্ছিস?
রুম্পা বলে, সিনেমায়।
মা বলেন, তোর সঙ্গে কে যাচ্ছে?
রুম্পা তড়িঘড়ি উত্তর দেয়, ওঃ, তুমি না… স্কুলের কয়েকজন বন্ধু।
মা এবার নিশ্চিন্ত হয়ে বলে, তাড়াতাড়ি ফিরে আসিস। তোর সঙ্গে জরুরি কিছু কথা আছে।
রুম্পা তড়িঘড়ি বলে, আচ্ছা মা, তাড়াতাড়ি ফিরব।
বলেই ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে।
রুম্পার ফিরতে রাত ন-টা বেজে যায়। বাড়িতে ঢুকে আগে ফ্রেশ হয়ে মায়ের সামনে বসে। উনি তখন টিভিতে সিরিয়াল দেখছিলেন। ও আসায় টিভিটা বন্ধ করে দেয়। তারপর গম্ভীর হয়ে বলে, এটা তোর তাড়াতাড়ি ফেরা হল!
রুম্পা বলে, কী করব, সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে সবাই ফুচকা খেতে গেল। তাই একটু দেরি হল। আচ্ছা, কী বলবে বলেছিলে।
মা এবার চোয়াল শক্ত করে বলে, এবার তোমার বিয়ে ঠিক করব ভাবছি। কোনও কিছু কথা থাকলে বলতে পারিস। কিছুদিনের মধ্যে কাগজে বিজ্ঞাপন দেব ভাবছি।
কথাগুলো শুনে রুম্পার মুখটা শুকনো দেখায়। সে শুধু মাথা নেড়ে নিজের ঘরে চলে যায়।
রবিবারে রুম্পা সাধারণত একটু বেলা করে ওঠে। কিন্তু সেদিন একটু তাড়াতাড়ি উঠে পড়ে। ওকে দেখে মা বলে, কী রে, আজ তো রবিবার!
রুম্পা হেসে বলে, না, ঘুম ভেঙে গেল, তাই।
ওর গলার স্বরে একটা উত্তেজনা লক্ষ করে। আর কিছু বলেন না। একটু বেলা বাড়তেই বাড়ির সামনে রিকশা এসে দাঁড়ায়। রুম্পাও সিঁড়ি দিয়ে তরতর করে নীচে নেমে যায়। এসবই তিনি রান্নাঘরে কাজ করতে করতে খেয়াল করেন। কিছুক্ষণ পরেই রুম্পা এসে হাজির হয়। ওর সাথে একটি ছেলে। রুম্পা রান্নাঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বলে, মা, একটু বাইরে এসো। দেখবে কে এসেছে।
ইতস্তত করে বেরিয়ে দেখে, সেই সৌম্যকান্তি চেহারার ছেলেটি। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন।
রুম্পা উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে, মা, ইনিই হচ্ছেন আমার সিনিয়ার।
ছেলেটি সাথে সাথে এসে প্রণাম করে বলে, আমাকে চিনতে পারছেন। সেই ব্যাঙ্কে…
মা এবার হেসে বলে, চিনতে পারব না? তোমরা বসে গল্প করো, আমি একটু আসছি।
বলেই মা চলে যায় রান্নাঘরের দিকে।
ছেলেটি চলে যেতেই রুম্পাকে বলেন, ওর সঙ্গে…
রুম্পা এবার দৃঢ় গলায় বলে, আমি ওকেই বিয়ে করব। ওর বাবা-মা আসবেন তোমার সাথে কথা বলতে।
বলেই রুম্পা মোবাইল ফোনটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
কয়েক দিন ধরেই ভাবনাটা মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। এবার রুম্পার কাকার কাছ থেকে টাকাগুলো নিতে হবে। বুকে সাহস নিয়ে চলে গিয়েছিল একতলায়। রুম্পার কাকা-কাকিমাকে একসাথে পেয়ে পুরো ব্যাপারটা বিস্তারিত বলেন। কথাগুলো শুনে কাকা একটু চুপ করে থেকে বলে, সব টাকা যদি রুম্পার বিয়েতে খরচ করে দাও তো পরে করবে কি? তাছাড়া ওর বিয়ের পর স্যালারির টাকা যদি তোমায় না দেয়। শ্বশুরবাড়ির একটা মতামত আছে তো?
তাই তো এসব তো কখনও ভাবনায় আসেনি। তাহলে? একটু চিন্তা করে বলে, না না, ওসব নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। ও আমি ঠিক বুঝে নেব। আসলে…
পাশ থেকে কাকিমা ফোঁস করে উঠে বলে, আমাদের ব্যবসা এখন মন্দা যাচ্ছে। কোনো টাকা-পয়সা দিতে পারব না।
এবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। কড়া স্বরে বলে, তোমাদের ব্যবসার খবর জেনে আমার কী লাভ? তোমাদের দরকারে টাকা দিয়েছিলাম। এখন আমার দরকার, টাকা ফেরত দিতেই হবে।
বউদিকে এরকম চেহারায় কখনও দ্যাখেনি কাকা, খানিকটা হতবাক হয়ে যান। কাকিমা তখনও চিৎকার করে বলছে, তোমার ক্ষমতা থাকলে আদায় কোরো।
কথাটা শুনে চুপ করে যায়। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে ঘর থেকে। অনেকদিন পরে নিরাপত্তাহীনতা মনকে গ্রাস করতে থাকে বন্দনাদেবীকে।
Post a Comment