উপরি বলতে চিতাভষ্মটা এনে দেওয়ার জন্য দুশো, পাঁচশো অথবা হাজারখানেক টাকাও পায় । শ্মশানের কর্মীদের মধ্যে সে টাকা ভাগ হয় ।
ডোমের চাকরি
রথীন্দ্রনাথ রায়
চাকরিটা ডোমের । তবু দরখাস্ত জমা পড়েছে প্রায় হাজার দশেক । শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণী পাশ । কিন্তু অনেকেই উচ্চশিক্ষিত । আর এরই মধ্যে অনেককে অতিক্রম করে কোনওভাবে চাকরিটা পেয়ে গেল নেপাল । সেও উচ্চশিক্ষিত । কিন্তু সেসব গোপন করেছে । সে উচ্চবর্ণের । তাও গোপন করতে চেয়েছিল । কিন্তু পারেনি । যদিও তার জন্য চাকরিটা আটকায়নি । ইতিমধ্যে বছরখানেক হয়েও গেছে ।
বেতনের সঙ্গে সে অনেকটা উপরি পায় । উপরি বলতে চিতাভষ্মটা এনে দেওয়ার জন্য দুশো, পাঁচশো অথবা হাজারখানেক টাকাও পায় । শ্মশানের কর্মীদের মধ্যে সে টাকা ভাগ হয় । তাতে ওর ভাগে দৈনিক দুহাজার বা তার বেশিও পায় । সংসারের অভাব মিটেছে । স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে । কিন্তু আজো সে বাবামাকেও বলতে পারেনি যে সে ডোমের চাকরি করে । মাসে একদিন করে রাত্রে বাড়ি ফেরে । মায়ের হাতে টাকাটা দিয়েই ভোরবেলায় চলে যায় সে । বলে তার অনেক কাজ । একদিনও ছুটি নেই ।
কিন্তু সেদিন রাত্রে খাওয়া দাওয়ার পরে মা চেপে ধরল । বলল, কি এমন চাকরি করিস যে মায়ের কাছে একদিনও থাকতে পারিসনা ? কি চাকরি করিস যে মাকেও বলতে পারিসনা ? মায়ের কোলে মাথা দিয়ে শুয়েছিল নেপাল । মা বুঝতে পারল সে কাঁদছে । — বল, কি হয়েছে ? — মা আমি ডোমের চাকরি করি ।
আমাকে ঘেণ্ণা কোরোনা মা । তাহলে তোমাদের ভরণপোষণ করতে পারবনা । ছেলে হয়ে তোমাদের ভরণপোষণ করাটা কি আমার কর্তব্য নয় ? বলোনা, আমি কি অন্যায় করেছি ? চাকরি না পেলে না খেয়ে মরতে হতো । তার থেকে কি এটা ভালো নয় ? তোমরা কাউকে বোলোনা যে তোমাদের ছেলে ডোমের চাকরি করে ।
( শেষ )
Post a Comment