বাঁটুলদাকে জব্দ করতে হাঁদা-ভোঁদা যে ফন্দি এঁটেছিল সেভাবে আমরা ব্যায়ামবীর তপনদার সাথেও ওই ফন্দি এঁটেছিলাম। বইতে বাঁটুলদা জিতেছিল। আর আমরা...

 

Story and Article

স্রষ্টা

জয়নারায়ণ সরকার

আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। পাড়ায় বন্ধুবান্ধবের সংখ্যা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। বাড়িতে কাগজের সাথে মাসিক শুকতারা রাখতেন বাবা। ম্যাগাজিনটা আসলেই হাতে নিয়ে পাতা উল্টিয়ে গোগ্রাসে পড়তাম হাঁদা-ভোঁদা আর বাঁটুলের কাণ্ডকারখানা। তারপর আমরা বন্ধুরা সদ্য পড়া কাণ্ডকারখানায় সামিলও হয়েছিলাম। পাড়ায় মল্লিকদের বাড়ি অনেকটা জায়গা জুড়ে। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই পরিত্যক্ত দেখে আসছি। মল্লিকরা মাঝে মাঝে এসে কয়েকদিন কাটিয়ে যেতেন। তাই বাড়িটার নামটাও মুখে মুখে এলাকায় বাগানবাড়ি নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। তারপর বহু দিন কেউ না আসায় নানা লতাপাতায় ঘিরে রেখেছিল সারা বাড়ি। জনমানবহীন বাড়িটা ঘিরে নানা ভৌতিক গল্প বলতেন বড়রা। তা শুনে হাত-পা ঠাণ্ডা হওয়ার জোগাড় হত। পরে অবশ্য বোঝা গিয়েছিল, ওইসব গল্প বলে আমাদের দস্যিপনাকে স্তিমিত রাখতে চাইতেন বড়রা। বাঁটুলদাকে জব্দ করতে হাঁদা-ভোঁদা যে ফন্দি এঁটেছিল সেভাবে আমরা ব্যায়ামবীর তপনদার সাথেও ওই ফন্দি এঁটেছিলাম। বইতে বাঁটুলদা জিতেছিল। আর আমরা...
মল্লিকদের বাড়ির গেটের গম্বুজের মাথায় সিমেন্টের গোলাকার বলের মতো বসানো। আমরা কয়েকজন হাঁদা-ভোঁদারা গোলাকার অংশটা ভেঙে নিয়ে কালো-সাদা রঙে রাঙিয়ে অবিকল ফুটবল হয়ে উঠেছিল। সেই গোলাকার সিমেন্টের ফুটবলকে মাঠের মাঝে রেখে বাঁটুলদা মানে ব্যায়ামবীর তপনদাকে শট মারতে বলে আমরা উত্তেজনায় ফুটছিলাম। দৌড়ে এসে লাথি মেরে মাটিতে পড়ে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠেছিলেন তপনদা। রমেন পিসেমশাই তড়িঘড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন ডাক্তারের কাছে। চপেটাঘাতের ভয়ে আমরা গা-ঢাকা দিয়েছিলাম। তপনদা হাইসুগারে রোগাটে চেহারার অধিকারী। আমরা হাঁদা-ভোঁদারা এদিক-ওদিক ছড়িয়ে পড়েছি কাজের তাগাদায়। রমেন পিসেমশাই কবেই... আর ছেলেবেলার নানা কীর্তির স্রষ্টা বেঁচে থাকবেন চিরকাল।