চারিদিক অন্ধকার ,পিছলে গেল পা , ফেলেদিল ভাগাড়ে , ক্ষুধা তৃষ্ণার চিন্তা নেই, চিন্তা নেই অনাহারে । আমি এখন আকাশে উড়ি , চোখ থাকে নীচে,দেখি সবকিছু এরই ফাঁকে ।
লাঠি বাবা
সুদীপ চক্রবর্তী
( গান্ধীজিকে মনে রেখে )
১৯১৭সন , পশ্চিম চম্পারন ,
তোমার হয়েছিল প্রথম পদার্পন ,
ওরা ভেবেছিল যুদ্ধ হবে , তৈরি হয়েছিল রনাঙ্গন ।
আমি মাঠের আল বেয়ে, মেঠোপথ দিয়ে পৌছালাম তখন ,
মাঠের চারদিকে কোলাহল আর শব্দে উদ্বেলিত জনগণ,
তোমার জয়গান আর জয়ধ্বনি ,
উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে আছে সার সার সেনা,
জানা যাচ্ছেনা তাদের কি বাসনা ।
একটু পরে তুমি এলে ,ওরা তোমায় জাপটে ধরল ,
আইন অমান্যকারী , দেশদ্রোহী,এর বিচার হবে ।
নিয়ে গেল ফাড়ি , তবুও হলো না জনগণের সাথে আড়ি ।
তারপর শুরু হলো ছুটোছুটি, হুড়োহুড়ি, দৌড়াদৌড়ি,
চলল লাঠি চলল গুলি,
রক্তে মাখা শরীর খেল লুটোপুটি,
এমন সময় পড়ল একটা লাঠির ঘা,
চারিদিক অন্ধকার ,পিছলে গেল পা ,
ফেলেদিল ভাগাড়ে ,
ক্ষুধা তৃষ্ণার চিন্তা নেই, চিন্তা নেই অনাহারে ।
আমি এখন আকাশে উড়ি ,
চোখ থাকে নীচে,দেখি সবকিছু এরই ফাঁকে ।
গঙ্গা পদ্মা দিয়ে গেছে অনেক জল,
চৌরিচৌরা থেকে জাহাজ বিদ্রোহ,
থামেনি কোন কোলাহল।
ডানডি থেকে বিদেশি বস্তু বর্জন ।
শুরু হলো বাঘ সিংহের গর্জন ,
আমাদের দেশ ছাড়ো,
এ দেশ আমাদের , অধিকার নেই অন্য কারো ।
ক্ষুদিরাম থেকে ভগৎ সিং আর প্রফুল্ল চাকী থেকে বিনয় ,দিনেশ ও বাদল ,
বন্ধ করতে পারেনি কোন কোলাহল ।
তোমার হাতে থাকতো লাঠি ,
লাঠির মতো শিরদাঁড়া সোজা, বিক্রি নয় ,সহজ এটা বোঝা ।
লড়াইয়ে হেরে গিয়ে মারল তোমার বুকে তিন তিনটে গুলি,
যেমন ভাবে সেদিন ভেঙ্গেছিল আমার মাথার খুলি ।
ওরা আবার এসেছে এই দেশে লাঠিবাবা ,
এস আমার হাত ধরো ,চল যাই লড়ায়ের ময়দানে, নতুন সূর্য উদয় হবে তোমারই মন্ত্রে ,
তোমারই উচ্চারিত বাণী চিরন্তনী করুক সবার গ্রন্থে ।
Post a Comment