শারদীয়া সংখ্যা কিছু লিটিল ম্যাগাজিন নিজস্ব বৈশিষ্ট্যেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে। মেধা,মনন, শ্রম ও রুচির দিক দিয়ে এই লিটিল ম্যাগাজিনগুলি সময়কে অতিক্রম করে একসময় ইতিহাস হয়ে উঠবে। হয়তো কোনো গবেষকের কাছেও তা গবেষণার বিষয় হবে। আজকের আলোচনায় এরকমই কয়েকটি পত্রিকা।
১
আন্তর্জাল
শারদ সংখ্যা ‘আন্তর্জাল’(১৪২৮) বের হয় সুদূর পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল থেকেে। খুব উন্নত মানের একটি পত্রিকা। এই সংখ্যাটিতে উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ লিখেছেন পবিত্র সরকার ‘শিক্ষার ভাষা আর নিজের ভাষা’ বিষয়ে। তরুণ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন ‘ছন্দের শক্তি, শব্দের শক্তি’ বিষয়কে কেন্দ্র করে। এছাড়া পার্থ রাহা, কামরুজ্জামান, ঋতম মুখোপাধ্যায়, শ্রীজিৎ জানা, সুকান্ত সিংহ, গোপাল ঘোষ, রিয়া চক্রবর্তীর প্রবন্ধগুলি দেশ গবেষণামূলক। স্বপ্নময় চক্রবর্তীর উপন্যাস নিয়ে লিখেছেন আশিস করণ। অসাধারণ কয়েকটি গল্পের মধ্যে ভগীরথ মিশ্র, জয়িতা সেনগুপ্ত, মোহাম্মদ হোসেন, জলি চক্রবর্তী শীল, মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি উল্লেখযোগ্য। অণুকল্প, নিবন্ধ এবং কবিতাগুলি বারবার পড়ার মতো। প্রতিটি লেখাই সুনির্বাচিত। প্রভাত মিশ্র, লক্ষ্মণ কর্মকার, পবিত্র মুখোপাধ্যায়, ঋত্বিক ত্রিপাঠী, শতরূপা সান্যাল, সুজিত মান্না প্রমুখ কবিদের কবিতা আছে। বহু অন্তরায় থাকা সত্ত্বেও নিষ্ঠা ও শ্রমের ফসল এই পত্রিকা অসম্পাদকীয় পাঠ করলেই বোঝা যায়। যোগাযোগ: সম্পাদক সুশান্ত আদক, ফতেপুর, দৌলতচক, ঘাটাল, পশ্চিম মেদিনীপুর-৭২১২১২, চলভাষ : ৬২৯৪৯৯০৪৪৭, দাম-১৩০ টাকা।
২
অভিব্যক্তি
শারদ সংখ্যা ‘অভিব্যক্তি’(১৪২৮) রীতিমতোই একটি গবেষণালব্ধ পত্রিকা বলেই মনে হলো। বিজ্ঞাপনহীন প্রতিটি পৃষ্ঠা সযত্নে সাজানো। যথাসম্ভব মার্জিন রেখেই লেখাগুলি পরিবেশন করা হয়েছে। উন্নত মানের কাগজে ছাপানো বলে পাঠকও আকৃষ্ট হবেন। বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে মা ও মেয়ের সাক্ষাৎকার সায়ন্তনী দাশগুপ্ত এবং সুমিতা দাশ দাশগুপ্তের। নিউ জার্সি ইউএসএ থেকে তাঁরা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। অজস্র কবিতা ও গল্পে ঠাসা হলেও লেখার মানও বেশ উন্নত। বড় গল্প, ব্যক্তিগত গদ্য, মুক্তগদ্য, প্রবন্ধ সবকিছুই ভীষণভাবে টানে। বর্তমানে যাঁরা নামকরা লেখক প্রায় সকলেই উপস্থিত। কচিকাঁচাদের পাতা এবং চিত্রকলা বিষয়ও পত্রিকা দপ্তর বেশ যত্নবান। সব রকমের যোগাযোগ: সম্পাদক অদিতি ঘোষ দস্তিদার, সোনারপুর, কলকাতা-৭০০১৫০, দাম-১৫০ টাকা।
৩
কেয়াপাতা
শারদ সংখ্যা ‘কেয়াপাতা’(২০২১) রীতিমতো শিহরন জাগানো একটি সংখ্যা। ৩৩২ পৃষ্ঠার পত্রিকাটিতে এবার কিছুটা ভিন্ন ধারার রচনার সন্নিবেশ পাঠকের কৌতূহল উদ্রেক করবে। প্রথম বই প্রকাশের শিহরন কেমন ছিল তার বিচিত্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই। এই পর্বের লেখক তালিকায়: দেবদাস আচার্য, কালীকৃষ্ণ গুহ, অমিতাভ গুপ্ত, গৌতম বসু, জয় গোস্বামী, সুবোধ সরকার, মৃদুল দাশগুপ্ত, গৌতম চৌধুরী, নির্মল হালদার এবং অনুরাধা মহাপাত্র রয়েছেন। একটা অজানা ইতিহাসের অভিজ্ঞতায় অবগাহন নিশ্চিত আনন্দের বিষয়। ‘একে একে নিভেছে দেউটি’ পর্বে একগুচ্ছ কবি সাহিত্যিক যাঁরা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন তাঁদের নিয়ে মূল্যায়ন করেছেন সব্যসাচী দেব, দেবেশ রায়, সুশীল সাহা, রন্তিদেব সরকার, প্রকাশ দাস, দেবেশ ঠাকুর, দেবাশিস চন্দ,হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিরূপ সরকার, প্রদীপ চক্রবর্তী এবং অরুনাংশু ভট্টাচার্য। শঙ্খ ঘোষ থেকে নাসের হোসেন প্রত্যেককেই আমরা নতুন রূপে আবিষ্কার করতে পারি। শতবর্ষের আলোকে সোমনাথ হোর ও ননী ভৌমিককে নিয়ে আলোকপাত করেছেন মৃণাল ঘোষ ও মানস শেঠ। প্রবন্ধে আছেন আমীরুল আরহাম। গল্প লিখেছেন: কিন্নর রায়, সৈকত রক্ষিত, মানব চক্রবর্তী, স্বপন পাণ্ডা, রূপক মিত্র, অহনা বিশ্বাস, স্বপ্নকমল সরকার,, শুভাশিস মল্লিক, কমলেশ কুমার এবং অমিত সাধুখাঁ। এই সংখ্যায় অসংখ্য কবিতা আছে। সৈয়দ কওসর জামাল, সংযম পাল, অরণি বসু, একরাম আলি, দীপক রায়, রণজিৎ দাশ, বিশ্বদেব মুখোপাধ্যায়, দেবারতি মিত্র আরও বহু উল্লেখযোগ্য কবিরা রয়েছেন। পত্রিকার অলংকরণ একটা বাড়তি আকর্ষণ। সংখ্যাটি উৎসর্গ করা হয়েছে কবি ও সম্পাদক পবিত্র মুখোপাধ্যায়কে যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যোগাযোগ: সম্পাদক অমিত সাধুখাঁ, আঝাপুর, পূর্ব বর্ধমান-৭১৩৪০১, চলভাষ:৭০০৩৭১০৫২৯, দাম:২৫০ টাকা।
৪
শতানীক
‘শতানীক’(১৪২৮) শারদ সংখ্যা ৪৬৪ পৃষ্ঠার বিপুল কলেবরে প্রকাশিত হয়েছে। অজস্র কবিতা, বড় গল্প, ছোট গল্প, অণুগল্প, অনুবাদ কবিতা, প্রবন্ধ আছে। মকবুল ফিদা হুসেনের প্রতীকী প্রচ্ছদও পত্রিকার মেধা ও রুচিকে স্পষ্ট করেছে। হিন্দোল ভট্টাচার্যের গুচ্ছ কবিতায় এবং বিদেশি কবিতার অনুবাদে কুন্তল মুখোপাধ্যায় এবং অঙ্কিতা ও নয়নাকে বেশ স্বচ্ছন্দ মনে হলো। বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাময়িকী নিয়ে সৌম্য ঘোষের গদ্যটি এবং নবনীতা দেবসেনকে নিয়ে জগন্ময় সেনগুপ্তের গদ্যটি মনে রাখার মতো। বড় গল্পে অমর মিত্র, প্রবীর রায়চৌধুরী, তৃষ্ণা বসাক, শ্যামলী আচার্য, সমরেন্দ্র বিশ্বাস, ঝানকু সেনগুপ্ত, অশোক মুখোপাধ্যায় ও নিত্যরঞ্জন দেবনাথ দুর্দান্ত লেখনি ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। ছোটগল্পে বিমল গঙ্গোপাধ্যায়, সুব্রত বসু, দেবাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়, আইভি চট্টোপাধ্যায়, অরিন্দম গোস্বামী, স্বপন মজুমদার, তপন রায়চৌধুরী, প্রশান্ত ঘোষ, রক্তিম ভট্টাচার্য, কুশল মৈত্র এবং আরও অনেকেই ভালোলাগার তালিকায় আছেন। অণুগল্পে নব বন্দ্যোপাধ্যায়, সুকুমার রুজ, প্রগতি মাইতি, অমিতাভ দাস, সুব্রত দেব, পারমিতা মণ্ডল, প্রীতি দাস, সৌমিত্র মজুমদার, মানস সরকার আরও অনেকেই মনে রাখার মতো গল্প লিখেছেন। ভালো লাগলো তথাগত চট্টোপাধ্যায় এবং নিমিত দত্তের অনূদিত গল্পও। ভ্রমণ কাহিনি এবং পুস্তক সমালোচনাও সংখ্যাটিকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে। দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, কালীকৃষ্ণ গুহ থেকে শুরু করে অজস্র কবিতা লিখেছেন এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কবিরা। বিশেষ রচনায় মধুময় পাল ও শ্যামলজিৎ সাহা এবং ধারাবাহিক রচনায় গৌর বৈরাগী তাঁদের সম্মোহন বজায় রেখেছেন। যোগাযোগ: সম্পাদক নিত্যরঞ্জন দেবনাথ,১নং ফার্ম সাইড রোড, ডাক- চুঁচুড়া আর এস, হুগলি-৭১২১০২, চলভাষ:৯৪৩২৮৪৭৬২৪, দাম :১৫০ টাকা।
৫
সত্তা
শারদীয়া সংখ্যা সত্তা(১৪২৮) ১৬ বছর ধরে প্রকাশিত হয়ে আসা একটি সংখ্যা। বেশ পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পত্রিকাটি এই প্রথম আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। বিজ্ঞান ও পরিবেশ এবং মানবকল্যাণমূলক বেশকিছু রচনার সমাবেশ পত্রিকাটির একটি বৈশিষ্ট্য। ‘সত্তা’ প্রসঙ্গে বিশ্লেষণ করেছেন প্রণবকুমার চক্রবর্তী, সুপ্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়, শংকর ঘোষ। ‘সৎ’ শব্দ থেকেই সত্তার উৎপত্তি।পত্রিকাটির সৎ উদ্দেশ্যও লেখাগুলির মধ্যে ফুটে উঠেছে। প্রবন্ধ লিখেছেন মহঃ আব্দুল্লা, পল্লব সরকার, প্রদীপকুমার জানা, রজতকুমার চক্রবর্তী, ড. আকরাম হোসেন মোল্লা, সুজিত রেজ, পূর্বাশা মণ্ডল। ছোটগল্পে অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোকবরণ চক্রবর্তী,কল্যাণাশিস নায়ক, হেমন্ত জানা,রবীন বসু, শান্তনু গুড়িয়া প্রমুখ।অণুগল্পে অনুপ সেনাপতি,হেমন্ত রায়, অর্কদ্যুতি মাইতি, অভিজিৎ রায়, স্বপন শর্মা, রতনকুমার নাথ, সৌমিত্র মজুমদার, মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস, অমিতাভ সিনহা। অনেক কবির কবিতাই ভালো লাগে। অর্পিতা রায়চৌধুরী লিখেছেন ‘মায়ের নরম সুতির শাড়ির ছেঁড়া আঁচলের ঘাম/ হলুদের গন্ধ না পেলে ঘুম আসে না রাত্রে’; প্রণবেন্দু বিশ্বাস লিখেছেন ‘অনুভব খুঁজে চলে জীবন স্বাদ’ এই মমতার ঘ্রাণ এবং জীবনতৃষ্ণার স্বপ্ন ও স্বাদ কবিতাগুলিতে উপলব্ধি করা যায়। যোগাযোগ : সম্পাদক অশোকবরণ চক্রবর্তী, উলুবেড়িয়া ইনস্টিটিউট অ্যান্ড লাইব্রেরি, উলুবেড়িয়া, হাওড়া — ৭১১৩১৫,চলভাষ :৮৬১৭৭৯১৩৩৬,দাম: ৬০ টাকা।
৬
সাহিত্য বিবর্তন
শারদীয়া সংখ্যা ‘সাহিত্য বিবর্তন’(১৪২৮) বেশ উন্নত একটি পত্রিকা। নবীন ও প্রবীণ লেখকদের উপস্থিতি এবং প্রতিটি লেখার সঙ্গে ছবি ও অলংকরণ পাঠককে আকৃষ্ট করবে। আফগানিস্থানে তালিবানের উত্থানে শিক্ষিত মহিলাদের প্রতিবাদ নিয়ে একটি মূল্যবান প্রবন্ধ লিখেছেন গৌতম সরকার। মাধবী দাস লিখেছেন সুকুমার রায়ের ‘হ-য-ব-র-ল’-এর শতবর্ষ নিয়ে। জন্মশতবর্ষে সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে বিশেষ আলোকপাত করেছেন জয়দীপ সরকার। ‘ভাওয়াই হাব’ এর জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে দিব্যেন্দু ভৌমিক এবং ‘ক্ষুধা’-র অভিজ্ঞতা নিয়ে পুরাণ-ইতিহাসের আলোকে বিশ্লেষণ করেছেন মানিক সাহা। কবি হিসেবে আল মাহমুদের মৌলিকতা কোথায় তার অন্বেষণ করেছেন ইউসুফ মোল্লা। লোকসংস্কৃতিতে ঝাঁপান উৎসব এর গুরুত্ব দেখিয়েছেন সাগর মাহাত। কয়েকটি অসাধারণ গল্প লিখেছেন আইভি চট্টোপাধ্যায়, নিখিলচন্দ্র দাস, শুভাশিস ঘোষ, গির্বাণী চক্রবর্তী, সুনীল সাহা, কল্যাণময় দাস, পৃথা রায়চৌধুরী, অনির্বাণ নাগ, অভিজিৎ রায়, সন্দীপা নন্দী, সৌমিলি বোস, সঞ্জয়কুমার নাগ, মৌসুমী চৌধুরী এবং উজ্জ্বল আচার্য। অণুগল্পে গৌতমী ভট্টাচার্য, অরুন্ধতী সাহা গুপ্ত, অম্বরীশ ঘোষ, তনুশ্রী গড়াই, অনুরাধা নাগ, সুদর্শন সাহা, হরিদাস পাল, কৃপাণ মৈত্র, অমিত পাল প্রমুখ। কবিতা, ছড়া, মুক্তগদ্য, স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদন, রম্য রচনা এবং ছোটদের আঁকি-বুকি নিয়ে পরিপূর্ণ একটি পত্রিকা। যে কোনও শ্রেণির পাঠকই মুগ্ধ হবেন। যোগাযোগ: সম্পাদক উজ্জ্বল আচার্য, ৪ নং ওয়ার্ড, নেতাজি রোড, দিনহাটা, কোচবিহার-৭৩৬১৩৫,চলভাষ :৭৪৭৮৯১৩৯৬১,দাম:৫০ টাকা।
৭
কাঞ্চিদেশ
উৎসব সংখ্যা ‘কাঞ্চিদেশ’(২০২১) নতুন আঙ্গিকে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি পৃষ্ঠা ঝকঝকে রঙিন এবং লেখার সঙ্গে লেখকের ছবিও একটি আলাদা আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। পত্রিকাটি হাতে নিলেই বোঝা যায় রীতিমতো খরচ করে এরকম একটি সংখ্যা করেছেন। প্রতিটি লেখাই ভালো লাগে। সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে ‘কাঞ্চিদেশ যেমন সবাইকেই সম্মান ও মান্যতা প্রদান করে, তেমনই আপনও করে নেয় খুব সহজেই।’ ভালো লাগলো সম্পাদকের সদিচ্ছা ও ভালোবাসা। প্রাক ব্রিটিশ শাসনকালে বাংলায় সংঘটিত জমিদার কৃষক বিদ্রোহ যা ‘শোভা সিংহের বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত তার প্রেক্ষাপট ও উত্থানের কাহিনি নিয়ে লিখতে গিয়ে বাগদি সম্প্রদায়ের অবদান সম্পর্কে অবহিত করেছেন। শোভা সিং আসলে বাগটি সম্প্রদায়েরই প্রতিনিধি বলে মনে করা হয়। বাগদিদের স্বাধীনতা ও আত্মরক্ষার লড়াই ইতিহাসে তা প্রমাণিত হয়েছে। বাংলার লোকসংস্কৃতি নিয়ে নানা বিষয়ে আলোকপাত করেছেন শুভঙ্কর রায়, বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ লেখকেরা। পুরনো দিনের পূজার দিনগুলো স্মরণ করেছেন কমলেন্দুবিকাশ রায়। অতীতের মহামারী নিয়ে লিখেছেন গুরুদাস রায়। দীনবন্ধু মিত্রের গল্প নিয়ে লিখেছেন সুরঞ্জন রায়। কবিতার সুর ও স্বরের বদল কীভাবে ঘটে গেছে সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন ড.আদিত্য মুখোপাধ্যায়। বেশ কিছু কবিতা, অণুগল্প মনে দাগ কাটে। যোগাযোগ: সম্পাদক শ্যামচাঁদ বাগদি,পুরনো হাসপাতাল পাড়া,রামপুরহাট-৭৩১২২৪,বীরভূম, চলভাষ :৯৯৩২৭৮৩৮২৯, দাম:২০০ টাকা।
৮
নবরূপে অর্পণ
বীরভূমের সাহিত্য পত্রিকা ‘নবরূপে অর্পণ’(২০২১)বিশাল কলেবরে প্রকাশিত হয়েছে। অতীতের সংখ্যাগুলি থেকে বাছাই করে মোট তিনটি খণ্ডে তা সন্নিবেশ করা হয়েছে। আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে দ্বিতীয় খণ্ডটি। সম্পাদক রাজেন্দ্র সাহু বিভিন্ন সময়ে যে প্রবন্ধগুলি লিখেছেন এটি তারই সংকলন। জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত তাঁর প্রবন্ধগুলি ইতিহাস, দর্শন, লোকসংস্কৃতি, শিক্ষা, সম্প্রীতি, সমাজ বিজ্ঞান প্রভৃতি বহু ক্ষেত্রকেই আলোকিত করে। ছাত্র-ছাত্রী, গবেষক, অধ্যাপক এবং সাধারণ পাঠকের কাছেও এগুলি যথেষ্ট মূল্যবান। দীর্ঘদিন লেখালেখির জগতে থেকেও তিনি তেমন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেননি কারণ তিনি একেবারেই প্রচার বিমুখ বলে। এই সংখ্যাটি পাঠ করলে বোঝা যাবে তিনি কতখানি আন্তরিক এবং সমাজ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কাছে দায়বদ্ধ। যোগাযোগ : সম্পাদক রাজেন্দ্র সাহু, নলহাটি কলেজ মোড়, নলহাটি,বীরভূম, চলভাষ :৮৯২৬৭৬০১৯৯, দাম:উল্লেখ করেননি।
Post a Comment