কবিতার পাঠক - সৌম্য ঘোষ
একজন কবি আপন জগতে একজন ঈশ্বর— কবি কারো মুখাপেক্ষী নন। নিজের জগতে তিনি স্বাধীন এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ।
শিল্পের জন্ম স্বাভাবিক। সাবলীল স্বঃতস্ফূর্ততায়। শিল্পকে অবিমিশ্র এবং নিত্য মনে করি। কবিতার মধ্যে কোনো কিছুই আরোপ করা যায় না। কবিতার উপাদান উদ্গত হওয়ার বিষয়, বপন করার নয়। সংবেদনশীল মানুষদের মধ্যে কবি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
নিরন্তর ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে কবিতা একটি স্বকীয় স্বর রপ্ত করে।
প্রকৃত কবিতা কখনোই আমজনতার খাদ্য নয়, ছিলও না। আমাদের কাব্যের ইতিহাস তা বলে না। আমজনতার কাছে কবিতা বরাবরই দুর্বোধ্য। চর্যাপদ, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কিংবা মেঘনাদ বধ থেকে আমজনতাকে পাঠ করে শোনান— কিছুই বুঝতে পারবে না।
একদিন কবিতা ছিলো ললিত শব্দের আড়ালে। এখন কবিতা সহজ শব্দের আড়ালে উচ্চাঙ্গ বিস্তার। যে অর্থে কবিতা আর কবিগান এক বস্তু নয়— সে অর্থে কবিয়াল আর কবিও এক নয়।
একজন কবি কখনোই পাঠক রুচির কথা চিন্তা করে কবিতা লেখেন না। কবিতার পাঠক অবশ্যই আলাদা। কবিতা শুদ্ধ শিল্পসমূহের অন্যতম। উচ্চাঙ্গ বা শাস্ত্রীয় সংগীতের শ্রোতা যেমন আলাদা, কবিতার পাঠকও তেমন। একটা বিমূর্ত চিত্র বুঝতে যেমন শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন তেমনি কবিতা বোঝার জন্যেও শিক্ষিত হওয়া দরকার।
সৌম্য ঘোষ। চুঁচুড়া। হুগলী।
https://storyandarticle.com
#storyandarticle
Post a Comment